ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন: শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এই প্রতীকী সমাহিতকরণকে ঘিরে অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাটি বাংলাদেশে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে পারে।
শনিবার শরীফ ওসমান বিন হাদির নামাজে জানাজায় কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জনসমাগম কেবল শোক প্রকাশ নয়; বরং এটি বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
হাদির মৃত্যুর পর ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস শোক প্রকাশ করেছে এবং জাতিসংঘের মহাসচিবও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিক্রিয়া ঘটনাটির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, সম্প্রতি কানাডায় এক শিখ ধর্মীয় ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে কানাডা সরকারের প্রকাশ্য সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নতুন করে আঞ্চলিক রাজনীতি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন সামনে এনেছে।
দেশের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী মত দমনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই হত্যাকাণ্ড সেই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র বা সংস্থার সম্পৃক্ততা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই গণজানাজা ভারতকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বিগ ব্রাদার’ সুলভ আচরণ পরিহার করে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার সময় এসেছে। প্রশ্ন হলো, ভারতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এই সংকেত কতটা গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করবেন?