• ঢাকা |

গ্রিসে ২০০–এর বেশি অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৭ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

লিবিয়া থেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ক্রিতের উপকূলে ২০০–এর বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সুদান ও মিসরের নাগরিকরাও রয়েছেন।

গ্রিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি নৌকায় করে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী ক্রিত দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে পৌঁছান। পরে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

গ্রিক সংবাদমাধ্যম দিমোকরাতিয়া জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূল পাহারা সংস্থা ফ্রন্টেক্স–এর একটি নজরদারি বিমান ইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ৪০ জন অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা শনাক্ত করে। পরে গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি টহল জাহাজ এবং একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় যাত্রীদের নিরাপদে ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের নিবন্ধন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে একই এলাকায় আরও দুটি নৌকা ভিড়লে সেখান থেকে মোট ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। প্রথম নৌকায় ছিলেন ৫৬ জন, যার মধ্যে ৩১ জন সুদানি ও ২৫ জন বাংলাদেশি। দ্বিতীয় নৌকায়ও ছিলেন ৫৬ জন; তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক।

ক্রমাগত অভিবাসীর আগমনে ক্রিত দ্বীপের স্থানীয় প্রশাসন ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধার হওয়া সবাইকে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের আশ্রয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এদিকে পৃথক এক অভিযানে মানবপাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। ইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ৫০ জন অভিবাসী উদ্ধারের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই কিশোর লিবিয়ার তবরুক শহর থেকে গ্রিস পর্যন্ত অভিবাসীবাহী নৌকাটি পরিচালনা করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই যাত্রার জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট এখনো লিবিয়া। উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করছেন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মানবপাচারকারী চক্রের কারণে এই পথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা এখনো কমেনি। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা রোধে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।