শামীম রহমান, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীকে আবারও দেশের অন্যতম সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়; গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত তার পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। নগরের প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া সবুজায়ন ফিরিয়ে আনতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ❝বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ❞ প্রতিপাদ্যে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজশাহী নগরীর নজরুল ভিলেজে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী রাজশাহী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা। বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালে নগরজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল। সে সময় রাজশাহী ছিল আরও সবুজ। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে আবারও সেই সবুজ নগরী ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে।
তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। তবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলো টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যার বিকল্প নেই। কারণ একটি গাছ রোপণের চেয়ে সেটিকে বড় করে তোলাই বেশি চ্যালেঞ্জের।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিক যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নেন, তবে পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অনেকটাই এগিয়ে যাবে। বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দেশজুড়ে হারিয়ে যাওয়া সবুজায়ন পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সবুজায়ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সে সময় রাজশাহী জাতীয় পর্যায়ে সবুজায়নের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাইদ, আরএমপির কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, জেলা পুলিশ সুপার নাইমুল হাছান এবং রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
এর আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলাপ্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। ১৫ দিনব্যাপী এ মেলায় ৫২টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।