ফারুক আহমেদ, মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নের শত্রুজিৎপুর বাজারে অবস্থিত শত্রুজিৎপুর ল্যাব মেডিকেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হোসেন ফকির (৩৫) রোগীর সাথে চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক মোঃ টিটো হোসেনের নামে। রবিবার ১৬ আগস্ট দুপুর ২ টার সময় শত্রুজিৎপুর ল্যাব মেডিকেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক টিটো হোসেন ও রোগী হোসেন ফকিরের কথা কাটাকাটি সরাসরি দেখা যায়।
শত্রুজিৎপুর গ্রামের রাজ্জাক ফকিরের পুত্র হোসেন ফকির পেশায় সে দরিদ্র ভ্যান চালক গত ১০ আগস্ট তারিখে জেনারেল ফিজিসিয়ান চিকিৎসক মোঃ টিটো হোসেন (ডিএমএফ) এর নিকট মুখের চোয়াল বাঁকা হয়েছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে তার সাথে প্রতারণা করে নানা ফন্দি কায়দায় বিভিন্ন পন্থায় ১৭ হাজার টাকার নেওয়া হয়েছে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠে। এসময় বারইখালী গ্রামের সামছুর ফকিরের পুত্র বাবুল ফকির সাথে ছিলেন।
চিকিৎসক মোঃ টিটো হোসেন রোগী হোসেন ফকিরকে বলে আমি আপনাদের নামে মানহানি মামলা দায়ের করবো।
চিকিৎসক টিটো হোসেন বলেন, রওশন জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতাল ঘোড়াশাল বাজার রোড, পল্লী বিদ্যুৎ গেইট পলাশ, নরসিংদী এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ৫ হাজার ৫০০ শত টাকা খরচ করে এস ট্রপোনিন আই, সিরাম ভিটামিন ডি, এস ক্রিটিনাইন, এস বিলিরুবিন, এসজিওটি, এসজিপিটি অ্যালকালাইন ফসফেট এই রিপোর্ট করায়। তিনি এসময় তিনি বলেন রোগীর কাডিও জেনিক শর্ক বা হাট স্ট্রোক করেছে এই রিপোর্ট যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও ঢাকায় করা যায় না এটা নরসিংদী রওশন জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতালে করতে হয়।
তবে মজার বিষয় রোগীকে প্রথমে ১০ আগস্ট চিকিৎসক টিটো হোসেনের প্যাডে ঔষধ লিখলো এরপর হাতে প্রেসক্রিপশন সাদা কাগজে লিখলো ১১ আগস্ট আর ঔষধ খাওয়ায় নিয়ে ও ইনজেকশন হিউম্যান এ্যালবুমিন ২০% একটার দাম ৪৫০০ টাকা দুইটা ৯০০০ হাজার টাকা দাম এটা প্রয়োগ করে ১৩ আগস্ট রওশন জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতাল নরসিংদী জেলার রিপোর্ট আনলো।
হোসেন ফকির চিকিৎসক টিটো হোসেনের হাতে ৭৫০০ টাকা, পরে ৪৫০০ টাকা, বাড়ি থেকে হোসেন ফকিরের মেয়ে হোসনে আরার কাছে থেকে ৫০০০ হাজার টাকা, পানি, অক্সিজেন ইত্যাদি বাবদ ১৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি শত্রুজিৎপুর বাজার ব্যবসায়ী ইয়াছিন জানে।
এবিষয়ে রোগী হোসেন ফকির বলেন, প্রেসক্রিপশন করার পরে ঔষধ খাওয়ায় নিয়ে ও দুটো ৯ হাজার টাকার ইনজেকশন পুশ করায়ে তারপর আমাকে টেস্টের কাগজ ধরায়ে দিয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ একটা প্রতারণা করে আমার কাছে থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছে চোখে ধুলো দিয়ে এছাড়াও প্রথমে আমি চিকিৎসা নিতে আসলে সে মাগুরা সদর হাসপাতালের বড় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ছিলো।
এরপর আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ১৩ আগস্ট আমি মাগুরা ল্যাবএইড লিঃ (ডায়াগনস্টিক) এ এমবিবিএস ডাক্তার অধ্যাপক ডাঃ এম এম এহসানুল হক কে দেখালে তিনি মাত্র ৭৫০ টাকার ঔষধ লিখে দেন সেই ঔষধ সেবন করে এখন আমি সুস্থ। আমার কাছে থেকে অপচিকিৎসার সেবা দিয়ে ১৭০০০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও ভুল চিকিৎসা প্রদানের বিচার দাবি করি।
এবিষয়ে মোঃ টিটো হোসেন ডিএমএফ (ঢাকা) সিপি আর (আমেরিকান হাট এ্যাসোসিয়েশন) জেনারেল ফিজিসিয়ান যিনি মেডিসিন, ডায়াবেটিস, জ্বর, বুকের সমস্যা ও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যাথা রোগে অভিজ্ঞ বলেন, আমি সঠিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং মাগুরা শহরে গিয়ে কথা বলবো।
এবার অনুসন্ধানে উঠে আসলো আরও ভয়ানক প্রতারণার বিষয় টিটো হোসেন শেষ মেষ চালাকি করতে গিয়ে ধরা পড়লো মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আকরাম হোসেন ইকরামের অনুসন্ধান চোখে। টিটো হোসেনের নিজের সাক্ষর করা তার প্যাডে ও সাদা রংয়ের কাগজের প্রেসক্রিপশনে। আর রওশন জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতাল, নরসিংদী এই টেস্ট কাগজে ল্যাব ইনচার্জ সাক্ষর তার নিজের। এছাড়াও ঢাকায় বাংলাদেশ রাস্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক অনুমোদিত ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং কোর্সে ৩য় বর্ষ অর্থ্যাৎ ফাইনাল ইয়ারে জুন ২০২৪ সালে পরীক্ষা দেয়। এই পরীক্ষায় টিটো হোসেন পিতার নাম হানিফ শেখ, মাতা রাহেলা বেগম তার রোল নম্বর ১৯০৩ ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৪৪৯১১ আর এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ সালে যেখানে সে ৩ টি সাবজেক্টে ফেল করে মাত্র ১৭ নম্বর পায়। সাবজেক্ট গুলো হলো বেসিক সার্জরি, বেসিক গাইনোকলজি এন্ড অবস্টেট্রিক্স, বেসিক কমিউনিটি মেডিসিন এন্ড হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিষয় গুলো এর মধ্যে বেসিক সার্জারি বিষয়ে লিখিত পরীক্ষায় মাত্র ১৭ নম্বর পেয়েছে যেখানে পাশ করতে ৪০০ শত নম্বর দরকার আর রেজাল্ট ফেল মানে অকৃতকার্য। আর সে এখন তার এই ফেল করা রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৪৪৯১১ তার প্রেসক্রিপশন প্যাডে নামের নিচে রেজিঃ নং- বলে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে অবৈধভাবে ও প্রতারণা করে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও মাগুরা জনসাধারণের কাছে প্রশ্ন একজন ফেল করা লোক কিভাবে মাগুরা সদর হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের সাথে ইন্টার্নী করে তারা মাগুরা সিভিল সার্জন, তত্ত্বাবধায়ক, পুলিশ প্রশাসন ও মাগুরা জেলা প্রশাসনের আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই টিটো হোসেন টাউট প্রতারক যেন সদর হাসপাতালে না যেতে পারে ডাক্তারদের কাছে। আর চিকিৎসা সেবার মতো একটি পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করেছে এই টিটো হোসেন এর আইনের আওতায় কঠোর শাস্তি ও বিচার দাবি।
শত্রুজিৎপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি ওসমান গনি মুছাপুরী জানান, শত্রুজিৎপুর ল্যাব মেডিকেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর সাথে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়। আমি আজকে খোঁজ খবর নিয়ে দেখি উক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। বিষয়টা আমার ইউনিয়ন পরিষদের শত্রুজিৎপুর গ্রামের এক দরিদ্র ভ্যানচালকের কাছে থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রতারণা করে চিকিৎসা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার ইউনিয়ন পরিষদের এসে লোকজন অভিযোগ জানাচ্ছে এই ভুয়া অপচিকিৎসকের বিরুদ্ধে। আর টিটো হোসেন নাম করে ঐ অপচিকিৎসক নিউজ এর মাধ্যমে দেখলাম ও জানলাম সে মেডিকেল ফাইনাল ইয়ারে ফেল করে তার মার্কশীটের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেছে যেটা বাংলাদেশের আইনে মারাত্মক অপরাধ মূলক কাজ। বিষয়টা নিয়ে আমি মাগুরা প্রশাসনের সাথে কথা বলবো।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা করছে পাঠক বৃন্দগণ এই ভুয়া অপচিকিৎসকের বিরুদ্ধে।