কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে চেক জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এনে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি লালমনিরহাট শাখার ব্যবস্থাপকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ দাখিল করেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার হাজীপাড়া (ওয়ারলেস কলোনী) এলাকার বাসিন্দা মো. রাজু সরকার (৩২)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শাজাহান আলীর ছেলে।
অভিযোগে রাজু সরকার উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী মোছা. শাহিনা আক্তার মুন্নি ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উত্তরা ব্যাংক পিএলসি লালমনিরহাট শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব (নং–৩৬৫৭১১১০০১১৬২৪৭) খোলেন। হিসাব খোলার সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে প্রথমে ১০ পাতার একটি নন-এমআইসিআর চেক বই দেয়। পরে সেটি ফেরত নিয়ে নতুন এমআইসিআর চেক বই সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মো. আব্দুর রশিদের পক্ষ থেকে একটি উকিল নোটিশ পেয়ে তিনি প্রথম জানতে পারেন তার নামে একটি চেক প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু যে চেকের কথা বলা হয়েছে সেটি তার স্ত্রীর চেক বইয়ের নয় এবং পুরো বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি আব্দুর রশিদ তার বিরুদ্ধে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (সি আর–১৪/২১)। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন।
তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালত আপিল মামলা নং–৪৪/২৫ গ্রহণ করে পূর্বের রায় বাতিল করে তাকে বেকসুর খালাস দেন।
রাজু সরকারের অভিযোগ, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার মাধ্যমে উত্তরা ব্যাংক লালমনিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিক এবং আব্দুর রশিদ চেক জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে হয়রানি করেছেন, যার ফলে তার সম্মানহানি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীর চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা তাদের কাছে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী।