• ঢাকা |

পিরোজপুর সন্ধ্যা নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ৮ কোটি টাকার ভারতীয় কাপড় আটক‎


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

‎২৫০–৩০০ বস্তা শাড়ি-থ্রি পিসসহ ট্রলার জব্দ, মাদকের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর: পিরোজপুরের সন্ধ্যা নদীতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কাপড় ও থ্রি পিস আটক করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে অভিযান চালিয়ে ‘এফবি হাজী পেয়ার’ (এফ-১১৫৪৯) নামের একটি ট্রলার জব্দ করা হয়। ট্রলারটিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বস্তা ভারতীয় কাপড় রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি টাকার বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

‎কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর ৪টার দিকে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ডের কনটিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে ৬-৭ সদস্যের একটি দল ট্রলারটিকে থামানোর চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটি থামাতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা প্রায় ২৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে জানা গেছে।

‎

‎পরে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। বর্তমানে ট্রলারে থাকা বস্তাগুলো তীরে নামিয়ে গণনা ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড়ের পাশাপাশি ট্রলারের ভেতরে মাদকদ্রব্য থাকার বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মাদক উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

‎

‎অভিযান ও মালামাল উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার ও পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

‎

‎এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, ট্রলারটি ছাড়িয়ে নিতে সকালে ‘সরোয়ার কমিশনার’ নামে এক ব্যক্তি ২০ লাখ টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে ভারতীয় কাপড়ের চালানের সঙ্গে ‘নিমাই মাঝি’ ও ‘সরোয়ার কমিশনার’ নামের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা জানা গেলেও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎ট্রলারটি বর্তমানে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া কাপড়ের প্রকৃত পরিমাণ, আনুমানিক মূল্য, চালানের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

‎

‎