কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সানিয়াজান, ধুবনি, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারি, চরবৈরাতী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্দ্ধন এবং সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, হরিণচড়া, কালমাটি সহ অন্তত ১২টি গ্রামের পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আমন ধানক্ষেত ও মৌসুমি ফসল। ঘরবাড়িতে পানি উঠায় অনেক পরিবার রাস্তার পাশে কিংবা বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে। চুলায় পানি উঠায় অনেকেই বাঁধের উপর রান্না করছেন। এদিকে গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিন দিন তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, ভাঙন রোধে প্রয়োজনে জিওব্যাগে বালু ভরাট করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বানভাসিদের পুনর্বাসনের জন্য তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হাওলাদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।