• ঢাকা |

১০ দলীয় ঐক্যের সমঝোতার ভাগে জামায়াতের ২১৫ আসন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

সাতটি আসনে কোন দলের প্রার্থীকে রেখে, কোন দলের প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

১৬ জানুয়ারি রাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি মোর্চার সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ক
য়েক দফা বৈঠক, দেনদরবার ও অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের পর ২১৫ আসন জামায়াতে ইসলামীর জন্য রেখে বাকি ৮৫ আসন শরিকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘দশ দলীয় ঐক্য’।

সমঝোতার যোগ বিয়োগে তিনশ আসনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির-এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ৭, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩, আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি ৩ এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে।

বাকি সাতটি আসনে কোন দলের প্রার্থীকে রেখে, কোন দলের প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, "জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি -জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আমাদের জোটের শরিক, তারা কোনো আসন ছাড়াই জোটের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবে। এখন পর্যন্ত কোনো আসন তাদের দেওয়া হয়নি, সম্ভাবনাও নাই।”

গত বৃহস্পতিবার আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই জোট।

সেদিন জামায়াতে ইসলামীকে ১৭৯, এনসিপিকে ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০, খেলাফত মজলিসকে ১০, এলডিপিকে ৭, এবি পার্টিকে ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ২ এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

বাকি ৪৭টি আসন রাখা হয়েছিল এই জোটে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু ‘ইনসাফ না পাওয়ার’ অভিযোগ তুলে শুক্রবার জামায়াত-জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় চরমোনাই পরীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হয় মঙ্গলবার। ভাগাভাগির নতুন হিসাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭ আসনের মধ্যে ৩৬টি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

অবশিষ্ট ১১ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি আগের দুটোর সঙ্গে পেয়েছে আরও একটি আসন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আগের ২০টিসহ নতুন করে পেয়েছে তিনটি।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও বাকি ৭ আসন কাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে সেই সিদ্ধান্তে পৌছাতে না পেরে উন্মুক্ত নির্বাচন করার কথা ভেবেছিলেন ১০ দলীয় ঐক্যের নেতারা। কিন্তু বুধবার সেখান থেকেও তারা সরে এসেছেন।

শেষ পর্যন্ত ৩০০ আসনেই জোটগতভাবে নির্বাচনে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, তাদের আসন সংখ্যা এখন ২১৫টি, সেটা কিছুটা কম বেশি হতে পারে।

"যেহেতু প্রত্যাহারের সুযোগ নেই, সুতরাং যে কয়েকটা আসন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সেখানে সমন্বয় হওয়া প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে অন্য প্রার্থী বসে যাবে। আর এটা বেশি ঝামেলা হবে না, কারণ সমন্বয় বাকি থাকা কয়েকটি আসনে দুই জনের বেশি প্রার্থী নেই।"

তিনি বলেন, “যে সাতটি আসন উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত ছিল, এখন সেগুলোতে প্রার্থী নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কীভাবে হবে সেটা জোট নেতারা ঠিক করবেন।"

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "১০ দলীয় ঐকের সব আসনে প্রার্থী মোটামুটি চূড়ান্ত। কোথায় কোন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন সেটা নিশ্চিত হয়েছে, আমাদের জোটে কোন দল কত আসনে জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নেবে তা শিগগিরই আপনাদের জানানো হবে।"