• ঢাকা |

জাল নথি থেকে ভুয়া চালান, গৃহায়নে ফুয়াদকে ঘিরে নানাপ্রশ্ন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় গৃহায়ন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কার্যক্রমে নথি জালিয়াতি, স্বাক্ষর জাল, ঘুষ লেনদেন এবং সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হিসাব সহকারী মোস্তফা হোসেন ফুয়াদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং নেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বিভাগীয় মামলার কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন জাতীয় গৃহায়ন-সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ নুরুল ইসলামের সঙ্গে মোস্তফা হোসেন ফুয়াদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তাঁর সুপারিশেই ফুয়াদ গৃহায়ন খাতে চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির শুরুতেই তিনি চেয়ারম্যানের কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন বলেও অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময় গৃহায়নের ভূমি ও বোর্ড সভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কম্পিউটারে টাইপ করার সুযোগ পেতেন ফুয়াদ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সভায় উপস্থাপিত হয়নি—এমন কিছু নথিকে সভায় উপস্থাপিত হয়েছে এবং সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমনভাবে নথি প্রস্তুতের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এভাবে শতাধিক বিতর্কিত নথি বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত প্রধান কার্যালয় থেকে মিরপুরে বদলি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিরপুরে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় পর্যায়ের প্রকৌশল-সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্টে জালিয়াতি এবং স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগও ওঠে। পরে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে তিনি গৃহায়নের অর্থ শাখায় পোস্টিং নেন বলে জানা যায়।

সেখানে সরকারি অর্থ জমা দেওয়ার চালান জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাতের একটি অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যাংকে অর্থ জমা না দিয়েই ভুয়া চালান তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।

এ ধরনের একটি ঘটনায় ২৭ লাখ টাকার চালান জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের হদিস পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে সিলেট বিভাগে দায়িত্ব পালন শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি গৃহায়নের স্থাপত্য শাখায় ফিরে আসেন। সেখানে তৎকালীন সিবিএ নেতা দেলোয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে একটি সিন্ডিকেটে যুক্ত হন।

ড্রাফটসম্যান হানিফ মিয়াসহ কয়েকজনকে নিয়ে ফুয়াদ একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে দেলোয়ারের প্রভাব কমে গেলে ফুয়াদ নিজেই ওই চক্রের নেতৃত্বে আসেন এবং নতুন একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

সবশেষে ফুয়াদকে গৃহায়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি ও সম্পত্তি শাখায় পোস্টিং দেওয়াকে কেন্দ্র করে আবারো প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে এবং চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে তাকে ওই গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পোস্টিং দেওয়া হয়।

ফুয়াদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে গৃহায়নের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে কানাগুষা চলছে। বিশেষ করে ভূমি ও সম্পত্তি শাখার মতো সংবেদনশীল জায়গায় তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা: ফেরদৌসী বেগমের অফিসে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোস্তফা হোসেন ফুয়াদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনীত  অভিযোগ মিথ্যা।" তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং শাস্তিমূলক বদলির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।