• ঢাকা |

নতুন সরকারকে স্বাগত ও সতর্কবার্তা; বিচার-সংস্কারে আপস নয়, সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান এবি পার্টির


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান ১৪৪৭ হিজরি ও নবগঠিত সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রত্যাশা, মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে রাজধানীর বিজয়নগরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে এবি পার্টি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, দুই যুগ পর বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জিয়াউর রহমানের পর ইউনুস সরকারের সময়কাল ছিল তুলনামূলকভাবে ভালো,এমন মন্তব্য করে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি শুভকামনা জানান।
তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে বিএনপি ও জিয়া পরিবার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছিয়ে আসা যাবে না। বিচার ও সংস্কারের যে ধারা চলমান ছিল, তা অব্যাহত রাখতে হবে। জালেমদের বিচার ব্যতীত ক্ষমার প্রশ্নই আসে না,বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। টিআইবি’র প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, চর দখলের মতো করে অনেক কেন্দ্রে ভোট দখলের ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে বের হয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
গত ১৭ বছর যারা আত্মগোপনে ছিল, তারা নতুন করে জালেমরূপে আবির্ভূত হয়ে বিরোধী দলের ওপর মামলা-হামলা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাদক কারবারি, মামলাবাজ ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে তিনি বলেন, বাজারে অস্থিরতা ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীকে কাজে লাগানোরও পরামর্শ দেন তিনি। বিরোধী দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ছাত্রসমাজের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন। বিগত ১৭ বছরের শাসন থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন,তারা আইন অনুযায়ী  কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না; তবে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তিনি বলেন, আমরা চাই সরকার সফল হোক। প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে,সরকার সেই প্রত্যাশা রক্ষা করবে বলে আশা করি।সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়াকে তিনি অনুচিত হয়েছে  বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জনগণের চাওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়তে হয়েছে এবং গণহত্যার সঙ্গে দলটির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে উপদেষ্টাদের সরাসরি মন্ত্রী হওয়া অনুচিত বলে মত দেন তিনি, তবে আইনগত বাধা না থাকলে নিয়োগে আপত্তি নেই বলেও জানান। তিনি বলেন, জনগণ যদি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারত, তাহলে একটি প্রকৃত জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো।পোস্টাল ব‍্যালটের ফলাফল দেখলে বোঝা যায় নির্বাচন ব‍্যবস্থা সংস্কার করা গেলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারত!
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর,ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসাইন রমিজ এবং রমনা থানা আহ্বায়ক আবদুল কাদের মুন্সীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।