কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ ১৯৭৭ সালের আগষ্টে ইসলামী ছাত্র শিবিরের দাওয়াত পাই শিবানীপুরের গোলাম মোস্তফা ও কামাল্লার হাফেজ আহমদ খন্দকারের মাধ্যমে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের দাওয়াত নিজের এলাকা কামাল্লা ও মুরাদনগরের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সভায় এটেন্ড করি ও বক্তব্য রাখি। ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিতি থাকার কারণে ঐ সময়ের বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রদের সমাগম হতো।তখনকার শিবিরের সাথী এবং মুরাদনগর থানার সভাপতি অতি তৎপর, নিরলস -কঠোর পরিশ্রমী ছাত্র শিবিরের দাওয়াত ও সংগঠন সম্প্রসারণে একান্তই নিবেদিত প্রান নীতি - নৈতিকতার ব্যাপারে সাংঘাতিক আপোষহীন যাত্রাপুরের ফেরদৌস আহাম্মদ ভুঁইয়া ( বর্তমানে সাপ্তাহিক সোনার বাংলার বার্তা সম্পাদক) সেই সময়ের কার্যক্রম ও তৎপরতার দায়িত্ব শীল।
আমি কামাল্লা হাইস্কুল থেকে ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা সদর উত্তর মহকুমায় ফার্স্ট হয়েছিলাম। সেই সময় থেকেই শুধু মুরাদনগরের বিভিন্ন স্কুলের হেডমাস্টারগনই নয়, হোমনা, দ্বেবিদার, বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও চান্দিনাসহ আশেপাশের অনেক স্কুলের হেডমাস্টারগনের কাছে আমি পরিচিত হয়ে গিয়ছিলাম এবং শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা হতো যে কামাল্লা হাইস্কুলের এই ছেলেটা এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে স্ট্যান্ড করবে।
১৯৮০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে ভালো রেজাল্টের কারনে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র -ছাত্রী দের মাঝে আমার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে ছাত্র শিবিরের দাওয়াতী কাজে আরও সুবিধা হয়। ততকালীন কুমিল্লা জেলা শাখা শিবিরের দায়িত্ব শীল গন, বিশেষ করে সদর উত্তর মহকুমার দায়িত্ব শীল গন আমাকে নিয়ে মুরাদনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের নিয়ে অনেক প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। আমি কিন্তু সেই সময় থেকে যারা ভালো ও মেধাবী ছাত্র ছিল তাদের তালিকা সংরক্ষণ করেছি এবং পুরো মুরাদনগরের আমার সমসাময়িক ভালো ছাত্রদের সাথে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াতের নেশায় বর্তমান সময় পর্যন্ত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। তাদের মধ্যে অনেকেই ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, সচিব, উপসচিব, অতিরিক্ত সচিব, কলেজের অধ্যক্ষ, প্রফেসর, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারে বড়ো কর্মকর্তা, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ইত্যাদি অসংখ্য এলিট পার্সন রয়েছেন। তাদের অনেকেই রিটায়ার্ড করেছেন। এবং তারা বর্তমানে আমাদের মুরাদনগর ফোরামের প্লাটফর্মে আমার সাথে সম্পৃক্ত আছেন। অবশ্য সেই সময় মুরাদনগর থেকে দেবিদ্বারে ছাত্র শিবিরের নেতৃত্ব সাপ্লাই হতো । ১৯৮০ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হবার পরে মূলতঃ বুঝে শুনে ছাত্র শিবিরের সক্রিয় কর্মী হই। কিন্তু ১৩ মাস ঢাকা কলেজে পড়াশোনার পরে পারিবারিক কারণে পুনরায় ঢাকা বোর্ড থেকে কুমিল্লা বোর্ডে স্থানান্তরিত হয়ে মুরাদনগরের কোম্পানিগন্জ কলেজে ভর্তি হবার পরে আরও ব্যাপকভাবে অসংখ্য ছাত্রের কাছে সংগঠনের দাওয়াতী কাজের সুযোগ হয়। আমি তখন অগ্রসর কর্মী। ১৯৮২ সালে কুমিল্লা বোর্ডে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান লাভের পরে গোটা মুরাদনগর, হোমনা, দ্বেবিদ্বারসহ আশেপাশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক ছাত্র দের মাঝে আমার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৮২ সালে আমাকে কোম্পানী গন্জ কলেজে এক বিশাল সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠানে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ১৯৭০ সালের নির্বাচিত মুরাদনগরের এমএনএ আলহাজ্ব আবুল হাশেম, তার বড়ো ভাই শিল্পপতি আলহাজ্ব আবদুল করিম, কুমিল্লার ততকালীন ডিসি আমিনুল ইসলাম ও সদর উত্তর মহকুমার এসডিও সহ মুরাদনগর এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এতে আমার দাওয়াতী কাজের সুবিধা অনেক গুণ বেড়ে যায় ও পাবলিক রিলেশন - পরিচিতি বেড়ে যায়। মুরাদনগরের কামাল্লা গ্রামে সুসম্পন্ন হলো একটি সুশৃঙ্খল বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম একটি বিশাল ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প। গত ১ এপ্রিল'২৫, মঙ্গলবার আর্ত মানবতার কল্যান ও মানবসেবা নিয়োজিত সংস্থা আবদুস সাত্তার সরকার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম - ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
মুরাদনগরের মেধাবী কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট চিকিৎসক সমাজ সেবক, ইসলামী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদ, গণমানুষের কাছে বিগত ৩৬ বছর যাবত যিনি জনদরদী ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত মুরাদনগরের প্রতিটি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের কাছে যিনি সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ডা: মুহাম্মদ তফাজ্জল হোসেন পারিবারিক উদ্যোগে এবং তাঁর মরহুম পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত আবদুস সাত্তার সরকার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে তাঁর নিজ বাড়িতে ঈদুল ফিতরের পরের দিন এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।ডা: মুহাম্মদ তফাজ্জল হোসেন সাহেবের পরিবারের ৫ জন চিকিৎসক এবং অন্য আরো ৪ জন চিকিৎসক সহ মোট ৯ জন চিকিৎসক এই চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। সকাল ৮ টা থেকেই বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগনের নামে আগত রোগীদের সিরিয়াল দেয়া শুরু হয়। সকাল ৮.৩০মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলে। সুশৃঙ্খল ভাবে রোগীর সিরিয়াল মেনেজমেন্ট,আলাদা আলাদা সুসজ্জিত চেম্বার এবং আরামদায়ক - প্রশান্ত পরিবেশে মোট ৩ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়।আল্লাহ সুবহানাহু তাআ'লা এই মানবসেবার আয়োজনকে ইবাদাত হিসেবে কবুল করুন।