বরিশাল ব্যুরো: ঝালকাঠির জলিল তালুকদারের মেয়ে মোসাঃ সুমনা আক্তার (৩৫) নামের এক নারী দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে একের পর এক স্বামীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন,এমন অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সুমনার পুরো পরিবার এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থেকে সহযোগিতা করে আসছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুমনার স্থায়ী ঠিকানা ঝালকাঠি সদর উপজেলার নেছাবাদ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানান সুমনা আক্তার সে ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন ছেলেদের কাছ থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ঝালকাঠি শহরের তাদেরকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। বর্তমানে তিনি বরিশালের বিমানবন্দর থানার, কাশিপুর বিল্লো বাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন। তার ভাই নাঈম তালুকদার ঝালকাঠির স্ট্যাম্প ভেন্ডার এবং আরেক ভাই রাশেদ তালুকদার ঢাকায় চাকরিরত। ভুক্তভোগীদের মতে, পরিবারের এই সদস্যরাই সুমনাকে প্রতারণা কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে জানা যায়, সুমনা প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন, এরপর বিয়ে করে কাবিননামার টাকা ও বিভিন্ন উপহার দাবি করেন। কিছুদিনের মধ্যেই দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি করে তাদেরকে একাধিক মামলা দিয়ে বিচ্ছেদের পথ তৈরি করেন এবং সালিশের মাধ্যমে কাবিনের মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।
ভুক্তভোগী মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, ২০০৯ সালে সুমনা তাকে বিয়ে করার পর অল্পদিনেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে তালাকের মাধ্যমে তিনি ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। একই কৌশলে ২০২১ সালে মোঃ সফিউল ইসলাম সৈকতের কাছ থেকেও ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া, সুমনা ৬ লাখ টাকা চাঁদা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রতারণার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা ও হুমকির মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। বর্তমানে একাধিক ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে সুমনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।