• ঢাকা |

১০ ঘণ্টার যাত্রা, ৪৫০ কিলোমিটার পথ—সাঈদীর কবর জিয়ারতে রাজশাহী থেকে ৫০ জন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

‎জাকির ফরাজীঃ ‎প্রিয় নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কবর জিয়ারতের আকুল টানে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা থেকে পিরোজপুরে ছুটে এসেছেন ৫০ জনের একটি দল। প্রায় ১০ ঘণ্টার ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁদের বহনকারী বাসটি সাঈদী ফাউন্ডেশনে পৌঁছায়। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি ছাপিয়ে তখন তাঁদের চোখেমুখে ছিল আবেগ, শ্রদ্ধা আর বহুদিনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা পূরণের তীব্র অনুভূতি।
‎
‎দলের অধিকাংশ সদস্যই আল্লামা সাঈদীর ভক্ত ও অনুসারী বলে জানা গেছে। ১৭ অক্টোবর রাতে গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান দলটির টিম লিডার ও দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জিয়াউর রহমান।
‎
‎তিনি জানান, রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা থেকে ৫০ জনের এই দলটি বাসযোগে পিরোজপুরে আসে। তাঁদের এই দীর্ঘ যাত্রার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রিয় নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কবর জিয়ারত করা—যাঁর বক্তব্য, আদর্শ ও দ্বীনের প্রতি অবিচল অবস্থান তাঁদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।
‎
‎প্রায় ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যায় তাঁরা সাঈদী ফাউন্ডেশনে পৌঁছান। কবরের কাছে পৌঁছানোর পর অনেকের চোখে নেমে আসে অশ্রু। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ মোনাজাতে হাত তোলেন, আবার কেউ প্রিয় নেতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর কবর জিয়ারতের সুযোগ পেয়ে তাঁদের মধ্যে দেখা যায় গভীর প্রশান্তি ও বেদনার মিশ্র অনুভূতি।
‎
‎রাজশাহী থেকে পিরোজপুরে এসে কবর জিয়ারতের এই উদ্যোগ আল্লামা সাঈদীর প্রতি তাঁর অনুসারীদের গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আত্মিক টানের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে দলের সদস্যরা বলেন, ‘হুজুর দ্বীনের জন্য কাজ করেছেন এবং আমাদের জন্য দিকনির্দেশনা রেখে গেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হুজুরকে শহীদ করা হয়েছে। হাসপাতালের বেডে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। সে সময় সরকারের বাধার কারণে আমরা জানাযায় 
‎
‎অংশগ্রহণ করতে পারিনি। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল হুজুরের কবর জিয়ারত করা। আজ আমাদের সেই আশা পূর্ণ হলো।’
‎
‎কথাগুলো বলতে গিয়ে তাঁদের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। বহুদিনের জমে থাকা কষ্ট যেন অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে। তাঁদের ভাষায়, প্রিয় নেতার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা একদিকে যেমন শোকাহত, অন্যদিকে তেমনি অনুভব করছেন এক গভীর আত্মিক শান্তি।
‎
‎অন্য এক সদস্য বলেন, ‘হুজুরের ওয়াজ আমরা বিভিন্ন ক্যাসেট ও অনলাইনের ভিডিওতে দেখেছি। তবে তাঁকে আমরা অনেকেই সরাসরি দেখিনি। তিনি আমাদের যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, আল্লাহর এই জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেই দায়িত্ব পালন করে যাব।’
‎
‎পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদীর উদ্দেশে তাঁরা বলেন, ‘তিনি যেন সাঈদী হুজুরের মতো তাঁর পিতার রেখে যাওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে পিরোজপুরসহ পুরো বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বে তা আঞ্জাম দিতে পারেন—এই দৃঢ় প্রত্যাশা আমরা তাঁর কাছ থেকে করছি।’