নিজস্ব প্রতিবেদক: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা, আগুন নেভানো এবং দুর্ঘটনায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারের কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক মহড়া পরিচালনা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এ প্রশিক্ষণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবনে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রদর্শন করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. নুরুল আমিন বিপ্লব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ, এসইউপি এবং হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আবু সাঈদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ভবনের মিলনায়তনে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন, বিএফএম (বার)। প্রশিক্ষণে অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয়, আগুন নেভানোর প্রাথমিক পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে উদ্ধারকাজ পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ শেষে হাইকোর্ট বিভাগের অ্যানেক্স ভবনের সামনে ব্যবহারিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নেভানোর কৌশল প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ভবনে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে রোপ ডিসেন্ডিং, টু-পয়েন্ট সাসপেনশন, রোপ র্যাপেলিং, অটোস্কেপ এবং টিটিএল ব্যবহারের কৌশল দেখানো হয়।
মহড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ব্যবহারিক অনুশীলন। এতে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগুন নেভানোর যন্ত্র কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা হাতে-কলমে দেখানো হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল এ প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মহড়াটি পরিচালনা করেন ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. ফয়সলুর রহমান ও এনামুল হক। এতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
জনসমাগমপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ মহড়ার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়।