• ঢাকা |

ভোলায় পৌর জামায়াতের নারী সমাবেশে ইতিহাস গড়া জনজোয়ার


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

ভোলা জেলা প্রতিনিধি: ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নারী সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। বিপুলসংখ্যক নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো সমাবেশস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নারী জাগরণ ও ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এই সমাবেশ ভোলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ভোলা শহরের বাংলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভোলা পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. জামাল উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাওলানা মো. আতাউর রহমান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভোলা-১ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা হারুনুর রশিদ, জেলা মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাস্টার মো. আমির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন,

“নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলামী সমাজব্যবস্থায় নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার সর্বোচ্চভাবে নিশ্চিত থাকে। সমাজ সংস্কার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় গেলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের এক হাতে সার্টিফিকেট আর অন্য হাতে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করে শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”

নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“নদীভাঙন ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিশাপ। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।”

শিক্ষা বিষয়ে তিনি জানান,“দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে কেউ আর্থিক কারণে পিছিয়ে না পড়ে।”

প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন,

“নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে কেউ ব্যর্থ হলে বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করলে জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”

সমাবেশে ভোলা পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী নেত্রী ও কর্মী অংশগ্রহণ করেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বসার জায়গা না থাকায় অনেক নারীকে সমাবেশস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।

সমাবেশ শেষে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সাদ্দাম হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, “এতো বড় নারী সমাবেশ ভোলায় আগে দেখিনি। এতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বহুগুণে বাড়বে এবং জামায়াতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।”

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।