ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সৌদি–বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬’। গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রায় ৩৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সৌদি বিজনেস কনসালট্যান্ট (এসবিসি) আয়োজিত সম্মেলনে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০, বিনিয়োগ লাইসেন্স, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এবং সৌদি বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
সম্মেলনে রিয়েল এস্টেট, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, খাদ্য ও কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ট্রেডিং খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এসব খাতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কীভাবে সৌদি আরবের বাজারে প্রবেশ করতে পারেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, বাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা এবং নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক অংশীদার নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সৌদি আরবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার আগে দেশটির বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান এবং কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ন্যাশনাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোখতার আহমেদ, লাইফস্প্রিং কনসালট্যান্সি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইনারা আমিন এবং হাজী ফাউন্ডেশন এডুকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আবদুল্লাহ জাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা অংশ নেন।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কিং সৌদ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ইউসুফ আবদুল্লাহ এম বিন সাররান, অধ্যাপক ড. মোহসিন কাজী এবং ওনকোটেক কনসালট্যান্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. আবদুল্লাহ আল-মুহাইজিন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, সৌদি আরবের বাজার সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য ও বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা পাওয়া বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ, সেবার মান বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা সৌদি আরবের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই এবং সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ পান।
সৌদি বিজনেস কনসালট্যান্ট সৌদি আরবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ লাইসেন্স, কোম্পানি গঠন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সম্মেলন দুই দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।