• ঢাকা |

ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এক-দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আশ্বাস, বন্ধ কলকারখানা চালু ও নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
: দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস এবং অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের জবাব দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গঠিত মজুরি বোর্ড কাজ শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে তিনি সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ এবং আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে তাদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল, আগামী দিনেও একইভাবে তাদের জবাব দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে চায়। দেশের মানুষ ও শ্রমিকদের এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়।

‘এখন সময় দেশ গড়ার, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। আমাদের লক্ষ্য একটাই—কাজ করব, দেশ গড়ব, সবার আগে বাংলাদেশ,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত ১৫-১৬ বছরে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যর্থতা, ভোটাধিকার হরণ এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাচ্যুত শক্তিগুলো দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, দেশের কলকারখানাও ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, কলকারখানা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পদ নয়; এগুলো দেশের মানুষের এবং শ্রমিকদের সম্পদ। শিল্পকারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষ। তাঁদের কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এক-দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যাগুলো সমাধান এবং শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারে দিনরাত কাজ করছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে এবং সরকার সেগুলো সম্পর্কে অবগত। এসব দাবি বিবেচনায় ইতোমধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজ শুরু করেছে এবং আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে।

শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশের পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বন্ধ কারখানা চালু ও নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ সরকারি-বেসরকারি কলকারখানা পুনরায় চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশের যেসব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বিশেষ করে সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করবে সরকার। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এর মূল লক্ষ্য দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

খুলনার অতীত শিল্পসমৃদ্ধির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায় বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে একদিকে যেমন তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মোংলায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাটাখালীর পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।