কল্লোল আহমেদ | সাংবাদিক ও সদস্য, আলোকিত লালমনিরহাট, ৮ নং ওয়ার্ড
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। সম্ভাবনাময় এই জনপদে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন, নারী নির্যাতন ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার নিয়ে সচেতন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের অন্যতম দাবি। এমন বাস্তবতায় একটি সুন্দর, নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত লালমনিরহাট গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের যে উদ্যোগ সামনে এসেছে, তার নাম ‘আলোকিত লালমনিরহাট’।
এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
আলোকিত লালমনিরহাটের মূল দর্শন হচ্ছে, শুধু আইন প্রয়োগ করে নয়, মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক আচরণে পরিবর্তন এনে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। মাদক, জুয়া, যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার তারিখ হিসেবে ১৩ এপ্রিল ২০০৩ সালের তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর নতুন উদ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম পুনরায় বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক ও তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বহুতল সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
আলোকিত লালমনিরহাটের বিশেষত্ব হচ্ছে, এখানে শুধু কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়নি। বরং জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী—
১. জেলা স্টিয়ারিং কমিটি: ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট। এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এবং সভাপতি জেলা প্রশাসক।
২. উপজেলা অ্যাকশন কমিটি: প্রতিটি উপজেলায় ৩১ সদস্যের কমিটি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহ্বায়ক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৩. পৌর অ্যাকশন কমিটি: ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মাধ্যমে পৌর এলাকার অপরাধপ্রবণ স্থান, মাদক ও জুয়ার আড্ডা এবং সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৪. ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি: ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের সামাজিক অপরাধ পর্যবেক্ষণ ও তদারকি পরিষদ।
৫. ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, নারী, যুবক, শিক্ষার্থী, খেলোয়াড় ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিরোধের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নেও এই সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের তদারকি এবং ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি পাড়া-মহল্লাকে এই আন্দোলনের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
আলোকিত লালমনিরহাটের কার্যপরিধি অনেক বিস্তৃত। এর উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা হচ্ছে—
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। যারা মাদক বিক্রি ও সেবনের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের শুধু অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। কারণ অপরাধের পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনতে হলে তার জীবিকার বিকল্প পথও তৈরি করতে হবে।
লালমনিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি পরিচিত এলাকা পুকুরপাড়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগে আলোচিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সেই জায়গায় নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে আলোকিত লালমনিরহাটের সামাজিক উদ্যোগ।
মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু নিজে পুকুরপাড় এলাকায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় মানুষ, মাদকসেবী ও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, মাদক কোনো সমাধান নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জীবন ধ্বংস করে।
তিনি শুধু মাদক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানই জানাননি, বরং বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সামনে এনেছেন। স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা, সমিতি গঠন, পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালনসহ আয়বর্ধক কাজে যুবকদের সম্পৃক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন। নারীদের জন্য নারী উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেছেন।
পুকুরপাড় নিয়ে মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর কর্মপরিকল্পনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি এলাকাটিকে আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্রে পরিণত করা।
এ লক্ষ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুরপাড় এলাকায় অবস্থিত পুকুরের একাংশ ভরাট এবং সংলগ্ন কিছু খাসজমি উন্নয়নের মাধ্যমে সেখানে কর্মসংস্থানমুখী কার্যক্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রী অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এলাকার নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের নারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, ক্ষুদ্র উদ্যোগ পরিচালনা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। নারীরা যেন প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাই আয় করতে পারেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্যদিকে, কর্মক্ষম বেকার যুবকদের নিয়ে আত্মকর্মসংস্থানমুখী সমিতি গঠন করে তাঁদের বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকানপাট পরিচালনা, হাঁস-মুরগি পালন, পুকুরে মাছ চাষসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম। অর্থাৎ, যেসব যুবক কাজ করতে সক্ষম কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার রয়েছেন, তাঁদের জন্য স্থানীয়ভাবেই রুটি-রুজির ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মূলত যেসব যুবক দীর্ঘদিন বেকারত্ব কিংবা মাদকনির্ভর পরিবেশের কারণে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারছেন না, তাঁদের জন্য সম্মানজনক জীবিকার পথ তৈরি করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য। নারীদের প্রশিক্ষিত করে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং যুবকদের হাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পুকুরপাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এখানে মন্ত্রীর পরিকল্পনার মূল দর্শন হচ্ছে, শুধু মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেই স্থায়ী সমাধান আসবে না। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পেছনে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো কারণগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা তৈরি করে মানুষকে মাদক ও অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, পুকুরের একাংশ ও সংলগ্ন খাসজমি যথাযথ নিয়মে উন্নয়ন করে সেখানে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, নারী উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে পুকুরপাড়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি হবে এবং এলাকাটি থেকে মাদকের প্রভাব সমূলে নির্মূল করার পথ আরও সুগম হবে।
তবে পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, প্রয়োজনীয় পুঁজি, বাজারসংযোগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে খাসজমি ও পুকুরের অংশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
পুকুরপাড়ের এই উদ্যোগ সফল হলে এটি শুধু একটি এলাকার পরিবর্তন নয়, বরং মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুকুরপাড়ের পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। এলাকাটি আগের তুলনায় অনেকটাই মাদকমুক্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। সেগুলো সমাধানে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আমার দৃষ্টিতে পুকুরপাড়ের এই উদ্যোগ আলোকিত লালমনিরহাটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কারণ এখানে শুধু অপরাধ দমনের কথা বলা হয়নি, অপরাধের পথ ছেড়ে মানুষকে সম্মানজনক জীবনে ফিরিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে।
এই সামাজিক আন্দোলনের বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলা প্রশাসক ও আলোকিত লালমনিরহাটের সভাপতি জনাব মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান এবং পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয় ও তদারকি এ উদ্যোগকে কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সামাজিক আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং পরিবারের সহযোগিতাও জরুরি।
লালমনিরহাটের উন্নয়ন বলতে শুধু শহরের সৌন্দর্যবর্ধন বোঝায় না। তিস্তা নদী ও তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও বিভিন্ন সময় গুরুত্ব দিয়েছেন। তিস্তা বাঁচলে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি নদী ও পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, লালমনিরহাটকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা। তাঁর এই উদ্যোগ যদি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি দেশের অন্যান্য জেলার জন্যও অনুসরণযোগ্য সামাজিক আন্দোলনের মডেল হতে পারে।
আমরা চাই, আলোকিত লালমনিরহাট শুধু নামেই আলোকিত না থাকুক; বাস্তবেও প্রতিটি মানুষের জীবনে আলো ছড়িয়ে দিক। মাদকমুক্ত যুবসমাজ, বাল্যবিবাহমুক্ত পরিবার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ, নিরাপদ নারী ও শিশু এবং কর্মসংস্থানমুখী তরুণ প্রজন্ম গড়ে উঠুক।
আমার বিশ্বাস, পুকুরপাড়ের পরিবর্তন যদি টেকসই করা যায়, নয়টি ইউনিয়নসহ জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক আন্দোলনকে কার্যকর করা যায়, তাহলে একদিন লালমনিরহাট সত্যিকার অর্থেই আলোকিত জনপদ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
এই মহতী উদ্যোগের রূপকার ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আলোকিত লালমনিরহাটের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা সব স্বেচ্ছাসেবীর প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।
আলোকিত লালমনিরহাট আমাদের অঙ্গীকার।
অপরাধমুক্ত সমাজ গড়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর লালমনিরহাট গড়ে তুলি।
লেখক: কল্লোল আহমেদ
সাংবাদিক ও সদস্য
আলোকিত লালমনিরহাট, ৮ নম্বর ওয়ার্ড।