• ঢাকা |

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে তিন অবৈধ ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দিল পরিবেশ অধিদপ্তর


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিগুয়ারীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান, বন্ধ করে দেওয়া হলো ভাটার কার্যক্রম

রায়হান আহমেদ, ময়মনসিংহ ব্যুরো: পরিবেশদূষণ রোধ ও অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে তিনটি ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটার চিমনি ও কিলন (ইট পোড়ানোর চুল্লি) ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভাটাগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলার নিগুয়ারী এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা আহমেদ লুনার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে HSB, TLRB ও MRB নামের তিনটি অবৈধ ড্রাম চিমনিবিশিষ্ট ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে ভাটাগুলোর চিমনি ও কিলন ভেঙে ফেলার পাশাপাশি ইট উৎপাদনসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূর কুতুবে আলম সিদ্দিক, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ, পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহিন আলমসহ কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ও জেলা আনসারের সদস্যরা অভিযান পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেন।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূর কুতুবে আলম সিদ্দিক জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেলার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত পরিবেশগত বিধিবিধান উপেক্ষা করে পরিচালিত অবৈধ ইটভাটা স্থানীয় পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে ড্রাম চিমনির মাধ্যমে ইট পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বায়ুদূষণ আশপাশের জনবসতি ও কৃষিপরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এ অবস্থায় শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অবৈধ ইটভাটার পুনরায় কার্যক্রম শুরু ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি ও আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ময়মনসিংহে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।