• ঢাকা |

রাজস্ব খাতের বাইরে পঞ্চগড় হর্টিকালচার সেন্টার, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২ নভেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ

মোঃ মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: পঞ্চগড় হর্টিকালচার সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব খাতের বাইরে থাকায় নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অফিস পরিচালনা ব্যয়, মাতৃগাছের পরিচর্যা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

 

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় হর্টিকালচার সেন্টারে বর্তমানে একজন উপসহকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলা অফিস থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। এছাড়া একজন কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি ঢাকা অফিস থেকে বেতন পান। একইভাবে একজন ফার্মলেবার দিনাজপুর অফিস থেকে বেতন গ্রহণ করেন। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত জনবলের বেতন-ভাতা বিভিন্ন দপ্তর থেকে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

কৃষি ও উদ্যানতত্ত্ব সংশ্লিষ্টদের মতে, হর্টিকালচার সেন্টারগুলো দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ এবং কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয়। বিশেষ করে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনয়ন, বসতবাড়িতে ফলজ বৃক্ষ রোপণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে পঞ্চগড় হর্টিকালচার সেন্টারসহ সরকারিকরণের বাইরে থাকা সাতটি প্রতিষ্ঠান এখনো কবে নাগাদ সরকারিকরণ বা রাজস্ব খাতের আওতায় আসবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি রাজস্ব খাতের আওতায় না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিয়মিত কোনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অফিস পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ, মাতৃগাছের পরিচর্যা, চারা উৎপাদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্যও কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় বকেয়ার পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

কৃষি উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে পঞ্চগড় হর্টিকালচার সেন্টারসহ সরকারিকরণের বাইরে থাকা সাতটি প্রতিষ্ঠান দ্রুত রাজস্ব খাতের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল, নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।