মোহাম্মদ ইউসুফ, বরিশাল: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।
আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য যে কাজগুলো ভালো, সেই কাজগুলো করলে সকলে উপকৃত হবে। আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এলাকার পরিবেশের যদি খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হব।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর শাখা সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সরকার প্রধান বলেন, আজ শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা, দলীয় নেতাকর্মী এবং যারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, সবাইকে রোপণ করা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা করতে হবে। গাছ বড় হলে যেমন পরিবেশ আরও মনোরম হবে, তেমনি খালের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় সাগরদী খালের পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণে স্থানীয়দের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, খাল রক্ষা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়। খালের দুই পাড়ে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা কেউ যেন খালে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল বা অন্য কোনো বর্জ্য না ফেলে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি অন্যদেরও এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, বিসিসি’র সাবেক মেয়র ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক হয়ে বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বরিশাল সফর।
সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। পরে গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেন। এর পর বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়াস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনা সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি বরিশাল নগরীর উদ্দেশে রওনা হন।। দুপুর ২টার দিকে সড়কের দুপাশে গড়ে ওঠা মানবপ্রাচীরের মধ্য দিয়ে তার গাড়িবহর নগরীর বান্দ রোড এলাকায় পৌঁছায়।
এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও।
প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির সভাপতিত্বে সাংগঠনিক এ সভায় প্রায় ৬০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।