• ঢাকা |

২০২৭ সালের হজে আরও ২০ হাজার কোটা চায় হাব


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২ নভেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও অপেক্ষায় ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী, সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান

এম এম রহমাতুল্লাহ: ২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য অন্তত আরও ২০ হাজার হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। সংগঠনটি বলেছে, নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হয়ে গেলেও হজ পালনের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ২০ হাজারের বেশি ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাঁদের ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণে সৌদি সরকারের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজন।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব দাবি জানায় হাব। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বক্তব্য দেন।

হাব জানায়, আগামী ১৫ মে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি তারিখে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশকে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে সৌদি সরকার।

সংগঠনটির দাবি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর হজ ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে হজযাত্রীদের আগ্রহ বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বরাদ্দকৃত কোটা পূর্ণ হয়েছে। এরপরও প্রায় ২০ হাজারের বেশি আগ্রহী হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন।

এ অবস্থায় অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের কথা বিবেচনা করে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে হাব। এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পূর্বঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই মেডিকেল ফি বাবদ বাংলাদেশের প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর হাব জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করে। পরবর্তী সময়ে সরকারের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে বলে জানায় সংগঠনটি।

এ জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হজ মিশনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাব।

সংগঠনটি জানায়, ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা আগামী ২৭ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য হজযাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল হয়ে নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে।

হাবের নেতারা বলেন, হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল ও সফল করতে সরকার, সৌদি কর্তৃপক্ষ, হজ এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সফলতা এসেছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত কোটা আদায়, আর্থিক জটিলতা নিরসন এবং সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে হাব।