ভারতের মাধ্যমে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে করিডোর দেওয়ার পরিকল্পনা বন্ধ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা দমনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারতের মদদে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। তাঁরা বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে পরিকল্পিতভাবে বিক্ষুব্ধ করে আন্দোলনে নামানো হচ্ছে এবং সেই আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সব দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্যসচিব আবদুস সালাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, শাহ ফেরদৌস হাসান নাজমুল প্রমুখ।
খোমেনী ইহসান বলেন, ‘ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরবেন’—এমন প্রচারণা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর কৌশল। নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি, আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগপন্থীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের দাবির প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। নতুন মজুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের মাসিক ২ হাজার টাকা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ তুলে খোমেনী ইহসান বলেন, শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে করা অসম চুক্তিগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। জাপানের সহায়তায় নির্মিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ কোনো দেশের সামরিক-কৌশলগত করিডোর হতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কারের দাবি জানান। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন, পোশাকশ্রমিক আন্দোলন নিয়ে জামায়াতকে দোষারোপ এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের অসহযোগিতার সমালোচনা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি ও জামায়াতের ভারতবিরোধী নেতাদের বিচারিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে বিএনপিকেও গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেন খোমেনী ইহসান।
সমাবেশ থেকে চার দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হলো—জাপানের মাধ্যমে ভারতকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও করিডোর প্রদানের সব চুক্তি বাতিল, ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কার, আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সব অসম ও অধীনতামূলক চুক্তি বাতিল।
এ ছাড়া নভেম্বরে রাজধানীজুড়ে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী পদযাত্রা এবং পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।