মোঃ মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পানের পিক ও ময়লা-আবর্জনায় নোংরা হচ্ছে হাসপাতালের দেয়াল। রোগী দেখতে আসা স্বজনদের পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা কিছু রোগীর অসচেতন আচরণে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে পানের পিকের দাগ পড়ে আছে। রোগী দেখতে আসা অনেক স্বজন পান খেয়ে যত্রতত্র, বিশেষ করে হাসপাতালের দেয়ালে পানের পিক ফেলছেন। শুধু স্বজনরাই নন, চিকিৎসা নিতে আসা কিছু রোগীও পান, জর্দা ও সুপারি খেয়ে হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে যেখানে-সেখানে পানের পিক ফেলছেন। এতে হাসপাতালের দেয়াল নোংরা হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
হাসপাতাল হচ্ছে অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার অন্যতম আশ্রয়স্থল। এখানে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। অথচ কিছু মানুষের সামান্য অসচেতনতা ও দায়িত্বহীন আচরণে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়; এখানে আসা প্রত্যেক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরও দায়িত্ব রয়েছে। পান, জর্দা ও সুপারি খাওয়ার পর যত্রতত্র পানের পিক ফেলা থেকে বিরত থাকা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি, দেয়ালে পানের পিক ফেলা নিষিদ্ধ করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আধুনিক সদর হাসপাতাল পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা মোঃ মিজানুর রহমান জানান হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে পান সুপারী ও জর্দা খাওয়া পরিহার এবং ডাস্টবিন ব্যবহার করার জন্য সচেতন করা হয়, তারপরও রোগী ও রোগীর স্বজনরা সচেতন না হয়ে হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গায় পানের পিক ও বজ্য ফেলেন, যতক্ষন পর্যন্ত মানুষ সচেতন হবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সফল হবোনা।
প্রশ্ন হলো, যে হাসপাতালে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেই হাসপাতাল নোংরা করার অধিকার আমাদের কে দিয়েছে? পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল গড়তে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সবার সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ।