• ঢাকা |

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ১০ মৃত্যু, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ছাত্রশিবিরের


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক যৌথ শোকবার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ এ পর্যন্ত ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অবকাশযাপনে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এ ঘটনা দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈধ অনুমোদন ছাড়াই কাঠের তৈরি রিসোর্টটি পরিচালিত হচ্ছিল। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমনপথ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রিসোর্টটি পরিচালিত হয়ে আসছিল, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।
তাঁদের মতে, পর্যটকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকা এবং তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং অনুমোদনহীনভাবে রিসোর্ট পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত পর্যটকদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রে আধুনিক ও সমন্বিত তদারকি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানায় ছাত্রশিবির। এ জন্য হোটেল ও রিসোর্টের বৈধ অনুমোদন যাচাই, অগ্নিনিরাপত্তাবিধি বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিদর্শন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতৃবৃন্দ।
তাঁরা বলেন, পর্যটকদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে অবহেলা যেন আর কোনো পরিবারের জন্য এমন অপূরণীয় শোকের কারণ না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।