কল্লোল আহমেদ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জস্থ মহিষতুলি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ কালাম আজাদের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে এক রাজকীয়, জাঁকজমকপূর্ণ ও আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আশাদুজ্জামান ও মোঃ জালাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বালাপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ডা. এনামুল হক, ভেলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা খাতুনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুধীজন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন করেন বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইফুদ্দীন মিয়া। তার তত্ত্বাবধানে পুরো আয়োজনটি ছিল সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমধর্মী।
বর্ণিল সাজসজ্জায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
দীর্ঘ ২৬ বছর একই প্রতিষ্ঠানে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে মোঃ আঃ কালাম আজাদ নিজেকে একজন আদর্শ শিক্ষানুরাগী ও সফল প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বক্তারা বলেন, তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও ফলাফলের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অভিভাবকের মতো এবং সহকর্মীদের কাছে একজন প্রজ্ঞাবান ও সহযোগিতাপূর্ণ নেতা।
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এই বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা তার কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। আবেগঘন পরিবেশে সহকর্মীরা তার সাথে কাটানো দিনের কথা স্মরণ করে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রিয় প্রধান শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি।
বিদায়ী বক্তব্যে মোঃ আঃ কালাম আজাদ বলেন, “এই বিদ্যালয়ই আমার জীবন। এখানে পাওয়া ভালোবাসা, সম্মান ও স্মৃতিগুলো চিরদিন হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। আপনাদের দোয়া নিয়েই নতুন পথচলা শুরু করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এই রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা প্রমাণ করে, একজন আদর্শ প্রধান শিক্ষক তার কর্ম, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকেন।