মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা জেলাবাসী অনেক প্রত্যাশার একটি হাসপাতালের নাম মাগুরা ডাঃ লুৎফর রহমান ডায়াবেটিস হাসপাতাল, মাগুরা।
কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালটি তৈরি করা হলেও দক্ষ পরিচালনা পরিষদের অভাবে জেলাবাসী কাংখীত সেবা পাচ্ছে না। দলীয় বিবেচনায় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আওয়ামীলীগ নেতাদের আত্মীয় স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারি পদে। ফলে তারা অদক্ষ ও অযোগ্যদের খাতায় নাম লেখিয়েছে। ৫ আগষ্টের পর হাসপাতালটি আওয়ামী দলীয় কালোথাবা মুক্ত হলেও সেটি আবার চলেগেছে এক বিএনপি নেতার পকেটে। ফলে যে লাউ সেই কদু অবস্থায় চলছে কার্যক্রম।
এই হাসপাতালটি মাগুরা শহর থেকে ৩/৪ কিলোমিটার দুরে পারনান্দুয়ালী গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় রোগীদের যাতাওয়াতে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। একমাত্র অটো রিক্সা বা ছোট গাড়ি ছাড়া অন্য কোন
গণপরিবহনের সুযোগ নেই। হাসপাতালে গমনের একমাত্র রাস্তাটিও কাঁচা। এই রাস্তাটি পাকা করারও কোন উদ্যোগ নেন না পরিচালনা পর্ষদ।
অন্যদিকে জেলায় ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধমূলক কোন কর্মকাণ্ড নেওয়া হয়না এই হাসপাতাল থেকে। ইনডোর ও আউটডোরে যে সব সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা সেটাও দেওয়া হয় না।
বেসরকারি দাতা ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহেরও কোন তৎপরতা নেই।
হাসপাতালের ফান্ড গঠনে যে সব উদ্যোগ নেওয়া দরকার সেটিও নেওয়া হচ্ছে না।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রুটিনমত হাসপাতালে আসছেন হাজিরা দিচ্ছেন আর বেতন ভাতা নিচ্ছেন। আর পরিচালনা পর্ষদ এর সদস্যরা মিটিং এ এসে চা নাস্তা খেয়ে দায়িত্ব শেষ করছেন।
এই হাসপাতালটির বর্তমান সেক্রেটারি হলেন বিএনপি নেতা আলী তারিক। তিনি এতটাই অযোগ্য, অদক্ষ ও ঘরকুনো যে কিভাবে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চালাতে হয় তার অ, আ, ক, খ কিছুই জানেন না।
স্বাস্থ্য সেক্টর সম্পর্কে তার নুন্যতম ধারনাও নেই। তিনি এই হাসপাতালে প্রায় দুই বছর সেক্রেটারি পদে রয়েছেন অথচ মাগুরা শহর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার
ব্যবস্থা নিতে পারেননি। হাসপাতালের ফান্ড সংগ্রহে কোন উদ্যোগ নিতে পারেননি।
মাগুরা জেলার ধনী ও দাতা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোন অনুদান সংগ্রহ করতে পারেননি। মাগুরায় বাণিজ্য মেলা থেকেও কোন ফান্ড নিতে পারেননি।
সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা বিদেশী দাতা সংস্থার কাছ থেকেও কোন সাহায্য আনতে পারেননি।
পদে পদে তিনি অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
এমন একজন অথর্ব লোক দিয়ে কি এমন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা বা তার উন্নতি করা সম্ভব?
এই বিষয়টি মাগুরার -১ আসনের সংসদ সদস্য এমপি আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খান এবং সচেতন মাগুরাবাসীকে ভেবে দেখতে হবে।
ডাঃ লুৎফর রহমান ডায়াবেটিস হাসপাতালের উন্নয়ন, সেবা কার্যক্রম বিস্তার এবং সুষ্টু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
নানা খাত থেকে ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হবে।
সাধারণ ও আজীবন সদস্য সংগ্রহ করেও ফান্ড সংগ্রহ করা যায়। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকেও ফান্ড সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তবেই হাসপাতালটি জেলাবাসীর উপকারে আসবে। ডায়াবেটিস এর মত অশেষ ক্ষতিকর রোগ থেকে জেলাবাসী মুক্তি পাবে।
এ ক্ষেত্রে আমরা ফরিদপুর জেলা ডায়াবেটিস হাসপাতাল থেকে শিক্ষা নিতে পারি। তাদের নীতি অনুসরণ করতে পারি।
মাগুরা ডায়াবেটিস হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তারা হয়তো জানেন না যে, ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের সিংহভাগ অনুদান দেন মাগুরারই কৃতি সন্তান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের মালিক মুক্তাদুর রহমান।
আমরা মাগুরাবাসী তার কাছে দাবী রাখলে নিশ্চয় তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।
এ ক্ষেত্রে মাগুরা-১ আসনের এমপি মনোয়ার হোসেন খান বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারেন।