• ঢাকা |

ছাত্র সংসদ গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্তের পথে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

আসাদুল্লাহ আল গালিব, জাককানইবি প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বতন্ত্র ছাত্র সংসদ (এসইউ) নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাবে তারা ছিলেন হতাশ। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। উক্ত কমিটি ইতোমধ্যে কয়েকটি সভাও করেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় এবং বর্তমান সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নির্বাচন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিটি কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় আইনে সরাসরি ছাত্র রাজনীতির অনুমতি না থাকায় নির্বাচন সংক্রান্ত একটি নীতিগত দিকনির্দেশনা তৈরির কাজ চলছে। কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগলেও শিক্ষার্থীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।”

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা বছরের পর বছর ধরে দাবিটি জানিয়ে এলেও এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস লামইয়া বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ক্যাম্পাস গঠনে এদের অবদান অনস্বীকার্য। দলীয় রাজনীতি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক না হয়ে বরং বিভ্রান্ত করে ও ব্যবহার করে। ছাত্র সংসদ হলে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব বিকাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক পরিবেশে অভ্যস্ত হতে পারবে।”

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী হিমেল আহমেদ বলেন, “গত দেড় দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস রেখে চাই, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হোক।”

আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সালেহীন মনে করেন, “জুলাই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, দলীয় রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পথে বড় বাধা। এখন সময় এসেছে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ গঠনের।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষার্থীর মতে, একটি স্বতন্ত্র ছাত্র সংসদ কেবলমাত্র নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করবে না, বরং পুরো শিক্ষার্থী সমাজের বৃহৎ স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের নিকট শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও অভিযোগ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এটি একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।

তারা বলেন, “ছাত্র সংসদ কেবল নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র নয়, বরং এটি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলনের মঞ্চ। এই উদ্যোগ কেবল জাককানইবির জন্য নয়, বরং দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ছাত্র সংসদ গঠনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটবে। ফলে ক্যাম্পাস হয়ে উঠবে আরও মানবিক, সচেতন ও সংবেদনশীল।