বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নতুন রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নবীন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি'র আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য মাসিক ভাতা ও শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদানের মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক জমকালো নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান যুব সমাজের মধ্যে মাদকের করাল গ্রাস ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগ জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, "মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন যে, শুধু আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে না। তারা পড়াশোনা করে একজন খেলোয়াড় হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। আমরা সেই খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রত্যেকটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণি থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে আমরা খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই। সেই বাধ্যতামূলকের মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা সুস্থভাবে গড়ে উঠবে।"
আমিনুল হক দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমরা মাদকের করাল গ্রাসে আমাদের যুব সমাজ, আমাদের তরুণ সমাজ যেভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, আমরা সেই যুব সমাজকে মাঠে আকৃষ্ট করে খেলাধুলার মাধ্যমে আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই।" এই লক্ষ্য অর্জনে সকলের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নতুন একটি জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, "ইতিমধ্যে শুনেছেন, গত তিন দিন আগে আমাদের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বলেছেন যে, আমাদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবদের জন্য এবং অন্যান্য ধর্মের যারা উপাসনালয়ের প্রধান রয়েছেন, প্রত্যেকের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে এবং শিক্ষিত সেই ইমামদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।"
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করে আমিনুল হক বলেন, "আমার যারা সামনে বসে আছে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ, তাদের জন্য আমাদের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কর্মসংস্থানের সুব্যবস্থা করার জন্য তিনি ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।"
তিনি অঙ্গীকার করেন, "আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যেভাবে শিক্ষিত বেকার যুবক কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বেকার ভাতা দেওয়া হবে; ঠিক একইভাবে আমাদের সেই শিক্ষিত যুবকদের জন্য নতুন নতুন করে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে... আমরা সেই সকল শিক্ষিত বেকার যুবক এবং যুবতীদের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ।"
তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।"
তিনি ফ্যামিলি কার্ড পরিকল্পনার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "তিনি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পরিবার যারা নির্বাচিত পরিবার প্রত্যেকের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। সেই ফ্যামিলি কার্ডের ভিতরে রয়েছে প্রতিমাসে আমরা ২ হাজার থেকে ২.৫ হাজার টাকা তাদেরকে প্রদান করব কিংবা আমরা তাদের যে মৌলিক চাহিদাগুলো রয়েছে—চাল, ডাল থেকে শুরু করে সেই মৌলিক চাহিদাগুলো আমরা তাদেরকে পূরণ করব।" এই কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সকল সুযোগ-সুবিধা সরকারিভাবে গ্রহণের সুযোগ থাকবে বলেও তিনি জানান।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আমিনুল হক বলেন, "আপনাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে কিভাবে নিজেদেরকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবেন, সেই গড়ে তোলার জন্য আপনাদের যে অভিভাবক, আপনাদের যে পিতামাতা রয়েছে, আপনাদের এই শিক্ষক-শিক্ষিকা মণ্ডলী রয়েছে, সকলের উদ্দেশ্য কিন্তু আপনারা কিভাবে ভালো পড়াশোনা করে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত হবেন।"
তিনি সবশেষে বলেন, "আমরা প্রত্যেকের কাছে আশা করব যে, আপনারা শুধু পড়াশোনা করে সমাজের উন্নয়ন করবেন না। পড়াশোনার মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের ব্যক্তিগত উন্নয়নও করবেন, আপনার সমাজের উন্নয়নের মাধ্যমে আপনি, আপনার দ্বারা আমরা রাষ্ট্রের যে উন্নয়ন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখছি, সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনারা প্রত্যেকে হবেন একেকজন অন্যতম মাধ্যম।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডক্টর মাহাদী আমিন । ঢাকা ১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিলটন, ১৪ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি সহ বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ।