• ঢাকা |

ফলাফলে সেরা, অবকাঠামোতে পিছিয়ে বার আউলিয়ার মাজার শরীফ দাখিল মাদরাসা


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মোঃ মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বার আউলিয়ার মাজার শরীফ দাখিল মাদরাসা শিক্ষার ফলাফলে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অফিসকক্ষের সংকটে পিছিয়ে রয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি ভালো ফলাফল অর্জন করে চলেছে। তবে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটোয়ারী উপজেলার ১৩টি মাদরাসার মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বার আউলিয়ার মাজার শরীফ দাখিল মাদরাসা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরীক্ষায় দুজন শিক্ষার্থী গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য আশাব্যঞ্জক অর্জন।

তবে ফলাফলে সাফল্য থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় অফিসকক্ষ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধরে রাখা, পাঠদান কার্যক্রম গতিশীল করা এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় মাদরাসাটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, অফিসকক্ষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

 

মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আব্দুর রউফ বলেন, “২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটোয়ারী উপজেলার ১৩টি মাদরাসার মধ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ বছর আমাদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। দুজন শিক্ষার্থী গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ১৩ জন জিপিএ-৪-এর বেশি পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “ফলাফলে ভালো অবস্থানে থাকলেও অবকাঠামোগত দিক থেকে আমাদের মাদরাসা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও অফিসকক্ষের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষকরা আরও সুন্দর পরিবেশে পাঠদান করতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হবে। এতে ভবিষ্যতেও ভালো ফলাফল অর্জন এবং উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান ধরে রাখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে আমরা আশা করছি।”

শিক্ষার ফলাফলে অর্জিত সাফল্যের সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয় ঘটানো গেলে বার আউলিয়ার মাজার শরীফ দাখিল মাদরাসাটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।