ফিরোজ মাহবুব কামাল
বেঁচে নাই নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহর ধারণা
মুসলিমগণ আজ ইতিহাস গড়েছে বিপুল জনসংখ্যা নিয়ে বেড়ে উঠায়; তাদের সংখ্যা আজ ১৫০ কোটির অধিক। তাদের হাতে রাষ্ট্রের সংখ্যা ৫০’য়ের অধিক। প্রতিটি রাজধানীতে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল সুরম্য প্রাসাদ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, মুসলিম বিশ্বে আজ নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম যেমন বেঁচে নাই এবং তেমনি বেঁচে নাই মুসলিম উম্মাহর ধারনা। বেঁচে নাই ইসলামী রাষ্ট্র। সে শূণ্যস্থান পূরণ করেছে জাতীয়, উপজাতীয় ও গোত্রীয় সেক্যুলার রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রগুলি ব্যস্ত তাদের জাতীয়, উপজাতীয়, রাজতন্ত্রী ও স্বৈরতন্ত্রী পার্থিব এজেন্ডাকে বিজয়ী করা নিয়ে। এরই পরিনাম হলো, এ পৃথিবী পৃষ্ঠে মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কোন রাষ্ট্রই বেঁচে নাই। ফলে কোথাও বেঁচে নাই মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শরিয়া। বিশ্বের দেড় শত কোটি মুসলিম আজ বাঁচছে নবীজী (সা:)’য়ের প্রতিষ্ঠিত পূর্ণ ইসলাম ছাড়াই। মুসলিমদের এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কি হতে পারে? প্রতিদানে প্রতিশ্রুত আযাব ছাড়া তারা আর কি আশা করতে পারে?
অথচ মুসলিমদের যখন একটি মাত্র রাষ্ট্র ছিল এবং সে রাষ্ট্রের জনসংখ্যা বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১০ ভাগের এক ভাগও ছিল না -তখন তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিশ্বশক্তি ছিল। তখন বিশ্বজোড়া তাদের ইজ্জত ছিল। কিন্তু আজ সে শক্তি নাই, সে সম্মানও নাই। মুসলিমগণ বাঁচছে মুসলিম নাম নিয়ে, কিন্তু বিশুদ্ধ ইসলাম নিয়ে নয়। তারা নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম পরিত্যাগ করেছে বহু শত বছর আগেই। এখন বাঁচছে বিভক্তি, পরাজয়, পরাধীনতা ও অপমান নিয়ে। নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম বাঁচলে দেখা যেত ইসলামী রাষ্ট্র; সে রাষ্ট্রে দেখা যেত মহান রব’য়ের সার্বভৌমত্ব, শরিয়ার বিচার, কুর’আনী জ্ঞান দানের শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্নীতির নির্মূল এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জিহাদ এবং ভাষা ও বর্ণ ভিত্তিক বিভক্তির বদলে প্যান ইসলামী ভাতৃত্ব। কিন্তু আজ আর কোনটাই বেঁচে নাই।
ফল দেয় না এমন আগাছার জঙ্গলকে কখনোই ফলবান বৃক্ষের বাগান বলা যায়না। সত্যিকার অর্থে সেটি জঙ্গল। তেমনি মহান আল্লাহ তায়ালার পথে নীরব ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের জমায়েতকে কখনোই মুসলিম উম্মাহ বলা যায়না। উম্মাহর অর্থ কোন জাতি বা গোত্র নয়। উম্মাহ হলো মহান আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব সেনাদল। বন্ধন এখানে ভাষা, বর্ণ বা রক্তের নয়, বরং সেগুলির উর্দ্ধে উঠে ঈমান, তাকওয়া এবং প্যান-ইসলামী ভাতৃত্বের। এখানে পৃথিবীর নানা ভাষা, নানা বর্ণ ও নানা অঞ্চলের ঈমানদারগণ একাত্ম হয় মহান আল্লাহ তায়ালার এজেন্ডাকে বিজয়ী করতে। উম্মাহর মিশনটি হয়, মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর আইনকে প্রতিষ্ঠা দেয়া। তারা কাজ করে অসত্য ও অবিচারের নির্মূলে এবং সত্য ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠায়। তাদের উপর কোন রাজা, ব্যক্তি, গোত্র, শ্রেণী ও জাতি বিশেষের এজেন্ডা কাজ করে না। উম্মাহর সে ধারণার উপর নির্মিত হয় ইসলামী রাষ্ট্র। যেহেতু রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া কোন সেনাদলই যুদ্ধ করতে পারে না, তেমনি ইসলামী রাষ্ট্র ছাড়া কখনই বিজয়ী হয়না ইসলামী উম্মাহর এজেন্ডা, মিশন ও ভিশন।
মুসলিম কিরূপে বেঈমান ও পথভ্রষ্ট হয়?
মহন আল্লাহ তায়ালার কাছে মু’মিন বা ঈমানদার রূপে গণ্য হওয়ার জন্য শুধু কালেমায় শাহাদত পাঠ এবং নামাজ রোজা ও হজ্জ যাকাত পালনই যথেষ্ঠ নয়, বরং অপরিহার্য হলো তাঁর এজেন্ডার সাথে একাত্ম হওয়া। তখন সে একাত্ম মুমিনদের নিয়ে গড়ে উঠে মসলিম উম্মাহ। এরাই তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করার কাজে জিহাদে নামে। তখন নির্মিত হয় ইসলামী রাষ্ট্র। অপর দিকে যারা মহান রব’য়ের এজেন্ডার সাথে একাত্ম হতে ব্যর্থ হয় এবং ব্যর্থ হয় জিহাদে নামতে -এরাই বিশুদ্ধ মুনাফিক হয়। কোন মুসলিম ভূমি যখন মুনাফিকদের দখলে যায়, সে ভূমিতে বিলুপ্ত হয় নবীজী (সা:)’য়ের ইসলাম। তখন আদালতে বিলুপ্ত হয় শরিয়া; এবং সংবিধান থেকে বিলুপ্ত হয় মহান রব’য়ে সার্বভৌমত্ব। প্যান ইসলামী ভাতৃত্বের বদলে তখন গড়ে তোলা হয় ভাষা, বর্ণ ও অঞ্চল ভিত্তিক বিভক্তি। মুসলিম উম্মাহর গৌরব কালে মুসলিমের মাঝে এমন বিভক্তি ছিল না। আজকের মুসলিমগণ ইসলাম থেকে কতটা দূরে সরেছে সেটি বুঝার জন্য বর্তমানের বিভক্ত মানচিত্র, শরিয়াশূণ্য আদালত, ইসলামী রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিই বলে দেয়।
ঈমান আনা কারো উপর বাধ্যতামূলক নয়, ইচ্ছা করলে কেউ কাফিরও হতে পারে। কিন্তু ঈমান আনার অর্থ, আজীবনের জন্য ঈমান আনা। ক্ষণিকের জন্যও বেঈমান হওয়ার সুযোগ নাই। ঈমানের অর্থ শুধু মহান আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস নয়, বরং সে বিশ্বাসের সাথে তাঁর এজেন্ডাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিরামহীন জিহাদ নিয়ে বাঁচতে হয়। মুমিনের জীবনে ঈমান ও জিহাদ একত্রে অবস্থান করে। জিহাদের অনুপস্থিতি মানেই ঈমানের অনুপস্থিতি। এবং জিহাদ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অর্থ প্রতিশ্রুত লানতপ্রাপ্তি ও আযাবপ্রাপ্তি। সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে সুরা আল-ইমরানের নিম্মের দু’টি আয়াতে:
كَيْفَ يَهْدِى ٱللَّهُ قَوْمًۭا كَفَرُوا۟ بَعْدَ إِيمَـٰنِهِمْ وَشَهِدُوٓا۟ أَنَّ ٱلرَّسُولَ حَقٌّۭ وَجَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ ٨٦
أُو۟لَـٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ أَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ ٱللَّهِ وَٱلْمَلَـٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ ٨٧
অর্থ: “এমন জাতিকে আল্লাহ কিভাবে হিদায়েত দিবেন -যারা ঈমান আনার পরও কুফরি করলো তথা তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলো, অথচ তারা সাক্ষ্য দেয় যে, রাসূল সত্য এবং তাদের কাছে এসেছে সুস্পষ্ট বয়ান? আল্লাহ জালেমদের হিদায়েত দেন না। এরাই হলো তারা যাদের প্রতিদান হলো, তাদের উপর বর্ষিত হবে আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের লানত এবং সমগ্র মানব জাতির লানত।” – (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৮৬-৮৭)
উপরিউক্ত আয়াত দু’টিতে সর্বজ্ঞানী মহান আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা পেশ করেছেন ঈমান আনার পরও মানুষ কিভাবে দোয়াল্লীন তথা পথভ্রষ্ট হয় এবং পরিণত হয় আযাবপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠিতে। প্রতিটি মুসলিমের জন্য এ আয়াত দু’টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ আয়াত দু’টিতে শিক্ষণীয় বিষয় হলো, একবার কালেমায়ে শাহাদত পাঠ করলেই সে আজীবনের জন্য মুসলিম থাকে না। সে লানতপ্রাপ্ত ও গজবপ্রাপ্ত বেঈমানদের দলেও শামিল হতে পারে। হতে পারে দোয়াল্লীন তথা পথভ্রষ্টও। ঈমানদার হওয়ার অর্থ হলো, মহান আল্লাহতায়ালার প্রতিটি হুকুম বা প্রতিটি বিধানের প্রতি আমৃত্যু অনুগত থাকা। তাঁর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা কাফিরে পরিণত করে। তখন জুটে আল্লাহতায়ালা, তাঁর ফেরেশতাকুল ও সমগ্র মানুষ জাতির লানত এবং জুটে গজব। তখন বিচ্যুতি আসে সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে।
ব্যর্থতা চেতনায় সুরা ফাতেহার শিক্ষা ধারণ করে বাঁচায়।
পবিত্র কুর’আনের এবং সে সাথে ইসলামের মূল বার্তাকে ধারণ করে সুরা ফাতেহা। সুরা ফাতেহার গুরুত্ব তাই অপরিসীম। সুরা ফাতেহার সে বার্তাটি এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে, সেটিকে ঈমানদারের মনের গভীরে বসিয়ে দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ নামাজের প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা পাঠকে বাধ্যতামূলক করেছেন। অন্য কোন সুরাকে সে মর্যাদা দেয়া হয়নি। প্রশ্ন হলো, কি সেই সুরা ফাতিহার বার্তা? সেটি হলো, ইবাদত করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাকে এবং একমাত্র তাঁরই কাছে সে সাহায্য চাইবে। অন্য কাউকে ইবাদত করা এবং তার কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। সুরা ফাতাহে পাঠের মধ্য দিয়ে ঈমানদার ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও তার ইবাদতের ঘোষণা দেয়। নামাজী প্রতি রাকাতে বলে:
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
অর্থ: “আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।” -(সুরা ফাতেহা, আয়াত ৫)।
একমাত্র মহান রব’য়ের ইবাদতের জন্য মানব জাতির সৃষ্টি -সেটির স্বীকৃতি রয়েছে এই আয়াতে। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মুমিন ব্যক্তির মনের আকুতি ধ্বনিত হয় নিচের দুই আয়াতে:
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
অর্থ: “(হে রব) আমাদেরকে সরল পথ দেখান, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি আপনার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।” -(সুরা ফাতেহা, আয়াত ৬-৭)।
সুরা ফাতেহার উপরিউক্ত তিনটি আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহতায়ালা মানব জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিদায়েতের বার্তাটি জানিয়ে দিয়েছেন। এ তিনটি আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে মুসলিম জীবনের মূল প্রায়োরিটি। যারা সে প্রায়োরিটিকে গুরুত্ব দেয় এবং সে অনুযায়ী জীবন গড়ে তুলে -একমাত্র তারাই এ জীবনে সফল হয়। সে প্রায়োরিটি হলো: এক). মহান রবের কাছে পুর্ণ আত্মসমর্পণ এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত। দুই). আমৃত্যু সিরাতাল মুস্তাকীমে চলা এবং সকল প্রকার বিচ্যুতির থেকে বাঁচা। কারণ, বিচ্যুতি মানেই জাহান্নামের পথ। সুরা ফাতেহার শেষের দুটি আয়াত পাঠের মধ্য দিয়ে নামাজী মাত্রই মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু্’টি প্রার্থনা পেশ করে। একটি হলো সিরাতাল মুস্তাকীম প্রাপ্তির, অপরটি হলো লানতপ্রাপ্তদের (যারা মাগদুব) এবং পথভ্রষ্টদের (যারা দোয়াল্লীন) পথ থেকে বাঁচার। কারণ, লানতপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট হওয়ার অর্থ, নিশ্চিত জাহান্নামবাসী হওয়া। এজন্যই মানব জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো সিরাতাল মুস্তাকীম পাওয়ার এবং লানতপ্রাপ্ত ও পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে বাঁচার দোয়া। যাদের এ দোয়া কবুল হয়, একমাত্র তারাই জাহান্নাম থেকে বাঁচে এবং জান্নাত পায়।
মহান আল্লাহ তায়ালাকে রাব্বুল আলামীন তথা বিশ্বজগতের প্রভু এবং নবীজী (সা:)কে তাঁর রাসূল রূপে বিশ্বাস করে, এমন মুসলিমদের সংখ্যা বাংলাদেশে কোটি কোটি। কিন্তু যাকে প্রভু রূপে মানা হয়, তাঁর হুকুমের বা বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণ ক’জনের? আত্মসমর্পণ থাকলে তো বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম দেশের শাসনতন্ত্রে তাঁর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি থাকতো; আদালতে থাকতো তাঁর শরিয়া আইন। তারা নামাজের প্রতি রাকাতে মহান রব’য়ের কাছে সিরাতাল মুস্তাকীমের জন্য দোয়া করলেও স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছে সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতির পথ। সিরাতাল মুস্তাকীমে থাকলে তো তাদের জীবনে শুধু নামাজ রোজা, হজ্জ যাকাত ও তাসবিহ পাঠ থাকতো না, মহান রব’য়ের এজেন্ডাকে বিজয়ী করার জিহাদ থাকতো। তখন ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পেত। কুর’আনে ঘোষিত মহান রব’য়ের এজেন্ডা তো দুর্নীতির নির্মূল ও সুবিচারের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এর কোনটাই তো তাদের মাঝে নাই। নামাজে পঠিত দোয়াতে সিরাতাল মুস্তাকীম চাইলেও রাজনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তা ভাবনায় ইসলামের দর্শন ও বিধি বিধানকে তারা স্থান দেয় না। এটি তো মহান রব’য়ের সাথে গাদ্দারী, কুফুরি ও মুনাফিকির পথ। এটি তো মাগদুব (লানতপ্রাপ্ত) ও দোয়াল্লীন (পথভ্রষ্ট) হওয়ার পথ। তারা যে সিরাতাল মুস্তাকীমে নাই -তার অকাট্য প্রমাণ তো তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও এজেন্ডা। সিরাতাল মুস্তাকীমের উপর থাকলে তাদের জীবনে কখনোই জাতীয়তাবাদ, গোত্রবাদ, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ ও সেক্যুলারিজমের ন্যায় কুফুরি মতবাদ দেখা যেত না। নবীজী (সা:)’য়ের জীবনে কি এসবের স্থান ছিল? এসব মতবাদে বিশ্বাসী হওয়ার অর্থ তো মহান আল্লাহ তায়ালার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়া। এসবই তো লানতপ্রাপ্তি ও সিরাতাল মুস্তাকীম থেকে পথভ্রষ্ট হওয়ার পথ।
মুসলিমগণ যে মহান আল্লাহ তায়ালা থেকে রহমত পাচ্ছে না -সে প্রমাণ তো প্রচুর। ফিলিস্তিন, লেবানন, কাশ্মীর, ভারত, আরাকান, জিংজিয়াং জুড়ে কাফির শক্তির হাতে যে নৃশংস অধিকৃতি, গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ -তাকে কি রহমত বলা যায়? আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়াতে যা কিছু ঘটেছে এবং এখনো অহরহ ঘটছে -সেগুলিকে কি তাঁর রহমত বলা যায়? তারা যেমন বাঁচছে পথভ্রষ্টতা নিয়ে, তেমনি বাঁচছে লানত নিয়ে। যুদ্ধে জয়-পরাজয় আসতেই পারে। কিন্তু লাগাতর পরাজয় এবং লাগাতর পথভ্রষ্টতা নিয়ে বাঁচার চেয়ে অধিক গ্লানিকর এবং অধিক কদর্যতা আর কি হতে পারে? সংকট এখানে শুধু ঈমানহীনতার নয়, বরং বিবেকহীনতারও। কারণ, বিবেক বেঁচে থাকলে সহজেই তারা সিরাতাল মুস্তাকীমে ফিরে আসতে পারতো। কারণ, মুক্তির এ সরল পথটি তো সবার জানা এবং সব সময়ই সেটি খোলা। ইসলাম যদি আরবের জাহিলদের পথ দেখাতে পারে এবং তাদের বিজয় ও গৌরব দিতে পারে, সে বিজয় ও গৌরব তো মুসলিম নামধারী আজকের পথভ্রষ্টদেরও দিতে পারতো। কিন্তু বিবেকের মৃত্যু ঘটলে সিরাতাল চেনা ও অনুসরণের কাজটি অসম্ভব হয়; তখন বাঁচতে হয় পথভ্রষ্টতা নিয়ে। সে ব্যর্থতাই ঘিরে ধরেছে বাঙালি মুসলিমসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিমদের। 15/10/2026