• ঢাকা |

মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পুলিশ এর (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশকে মানবিক, আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। পুলিশকে শক্তিশালী ও সক্ষম করা না গেলে সমাজে দিন-রাত স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাগেরহাট জেলা পুলিশের আয়োজনে নতুন পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আইজিপি বলেন, মাদক দেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। মাদক নির্মূলে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে এ সমস্যা সম্পূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধপ্রবণতা ও মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতার কারণে ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইজিপি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সমন্বয়ে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকার অপরাধ, মাদক সেবন ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের বিষয়ে বাসিন্দারা অনেক তথ্য জানেন। এসব তথ্য যথাযথভাবে পুলিশকে জানানো হলে অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

আইজিপি আরও বলেন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, মাদক ও দুর্নীতিসহ সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। যাঁরা স্বেচ্ছায় সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।পুলিশের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশের অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোর তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন কম রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের বহরে আট থেকে ২০ বছর পুরোনো যানবাহনও রয়েছে।

তিনি জানান, পুলিশের যানবাহনসংকট নিরসনে পাঁচ হাজার ৮০০টি গাড়ি কেনার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।

জনবলসংকট প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, একদিনে এ সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিবছর কমপক্ষে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জনবলসংকট কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশকে আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি দিয়ে মব সৃষ্টি না করে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের উচিত পুলিশকে সহযোগিতা করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি। দেশে প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার যুক্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা এবং তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।

এ ছাড়া সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে পুলিশ-জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সমাবেশ শেষে আইজিপি জেলা পুলিশ লাইন এর আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।।