• ঢাকা |

ফুডির এইচআর প্রধানের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগ, চার দিন ধরে কারাগারে


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউএস-বাংলা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফুডির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান মো. তাহামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন, যৌতুক দাবি এবং পৈতৃক সম্পত্তি ও অর্থের জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের তদন্তের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তিনি চার দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘিরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বাধীন যাচাই এবং অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, তাহামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগে অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ জানানোর পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তী সময়ে পারিবারিক জীবনে মানসিক চাপ, অপমান এবং সম্পত্তি ও অর্থের দাবিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ সম্পত্তি ও অর্থের দাবি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তাহামিদুর রহমান তাঁর স্ত্রীর কবজি শক্ত করে চেপে ধরেন, গলা চেপে ধরেন এবং পেটে ঘুষি মারেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।

এরপর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তের পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, চিকিৎসা নথির বিবরণ, আদালতের আদেশ এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধানের দায়িত্বের মধ্যে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, আচরণবিধি বাস্তবায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে এ ধরনের পদে দায়িত্ব পালনকারী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও জবাবদিহির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে।

তাহামিদুর রহমানের মানবসম্পদ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পদের জন্য প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রামাণ্য তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

একই সঙ্গে, তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা পড়েছিল কি না, পড়ে থাকলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।

পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকসংক্রান্ত অভিযোগ ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় হিসেবে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আইন অনুযায়ী তদন্ত, প্রাসঙ্গিক নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

একইভাবে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা বা তাঁকে গ্রেপ্তার করা মানেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও রক্ষা করতে হবে।

এ ঘটনায় ফুডি ও ইউএস-বাংলা গ্রুপের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, অভিযোগ সম্পর্কে তাদের পূর্ববর্তী জ্ঞাতসার এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানে পদমর্যাদা, পেশাগত পরিচিতি কিংবা প্রভাব যেন কোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। শেষ পর্যন্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হবে প্রমাণ, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।