• ঢাকা |

জাইমা রহমানের জন্মদিনে বগুড়ায় ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মো: রুহুল আমিন, বগুড়া: অন্য বছরের তুলনায় এবার ভিন্ন আয়োজনে বগুড়ায় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উদ্‌যাপন করা হয়েছে। কেক কেটে উৎসব করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ এবং অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের বাইসাইকেল তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ।

রোববার সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানো। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে।

একই দিন দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এ সেবার আওতায় আনা হয়েছে। প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে ২ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও পালন করেছেন তিনি। তখন দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এবারও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কল্যাণে কাজ করাই এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

বাইসাইকেল বিতরণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নারীশিক্ষার উন্নয়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিবাহ ও ইভ টিজিং প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।

চক্ষুচিকিৎসা কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলটি ধোঁকাবাজির রাজনীতি করে এবং যারা তাদের কথায় বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা এখন আফসোস করছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচার চালানো হলেও ভোটের পর ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের আর দেখা যায় না। ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণে তারা যথাযথ গুরুত্ব দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের কথা ভেবেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের চোখের সমস্যা দূর করতে চান তিনি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী মীর লাবনী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠান শেষে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়।