• ঢাকা |

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ডিসিসিআইতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এমএম রহমাতুল্লাহ: ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী ও পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান ইকবাল এবং ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদের মধ্যে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সার্বিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মাদ ওয়াসিফ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ডিসিসিআই পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, "বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাবনা অপরিসীম, কিন্তু তা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু এবং শিপিং রুট চালু হলে বাণিজ্য আরও সহজ হবে।"

বৈঠকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়, যা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক হবে। এছাড়া, কৃষি, সিমেন্ট ক্লিংকার, চামড়া পণ্য, সার্জিক্যাল যন্ত্র, রাসায়নিক, আইটি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অধ্যাপক আহসান ইকবাল বলেন, "পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উভয় দেশের তরুণ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী আইটি খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।"

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া, পাকিস্তানকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য অন্যান্য দেশে রপ্তানির প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়।

এই বৈঠক বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী অধ্যাপক আহসান ইকবাল সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার আত্মার চির শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেন। এর পরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ভিজিট করেন এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে একটি সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা কিভাবে অধিক স্কলারশিপের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারে সে বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকায় দুই দিনের সফররত পাকিস্তানের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী ও মুসলিমলীগ নেতা এর আগে মঙ্গলবার  বাংলাদেশ সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মন্ত্রীপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।