ফিরোজ মাহবুব কামাল: বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিশাল প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত বিচার বিভাগ। শত শত যোগ্যবান, উচ্চ শিক্ষিত, ঈমানদার ও মেধাবী মানুষদের এখানে নিয়োগ দেয়া উচিত। দেশে অপরাধী দুর্বৃত্তদের সংখ্যা হাজার হাজার। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা খাড়া করতে হলে তাজুল ইসলামের মত শত শত প্রসিকিউটের দরকার। কিন্তু সে কাজে এই অবধি গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
সে সাথে দরকার সৎ ও যোগ্য ঈমানদার মানুষদের নিয়ে গড়া বিশাল পুলিশ বাহিনী। যেহেতু বাংলাদেশে দুর্বৃত্তদের সংখ্যাটি বিশাল, সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এমন একটি শক্তিশালী পুলিশ বিভাগ ও বিচার বিভাগ গড়ে তোলার বিকল্প নাই। গড়ে তুলতে হবে বিশাল আকারের দুর্নীতি দমন কমিশন।এটি অতি জরুরী।
তাই দেশে শুধু শিল্প-কারখানা, মসজিদ মাদ্রাসা ও স্কুল কলেজ গড়লে চলবে না, শক্তিশালী বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগ গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণের কাজ ব্যর্থ হয়ে যাবে।
দেশে গড়ে তুলতে হবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের পক্ষ থেকে গণতদন্ত কমিশন ও গবেষণা বিভাগ। দুর্বৃত্ত দমন ও দুর্বৃত্ত নির্মূলের কাজ শুধু সরকারের নয়, এ দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের। অপরাধীরা সাধারণ নাগরিকদের মাঝেই বসবাস করে। সরকারের চেয়ে জনগণ তাদের সম্বন্ধে বেশি খোঁজখবর রাখে। তাই মহল্লায় মহল্লায়, থানায় থানায়, জেলায় জেলায় অপরাধীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিতে হবে জনগণের। অপরাধীদের অপরাধ-কর্ম নিয়ে প্রমাণসহ পত্রপত্রিকায় নিয়মিত নিবন্ধ প্রকাশ হওয়া উচিত। এ কাজটি দেশের যোগ্যবান সৎ ও মেধাবী সাংবাদিকদের।
বুঝতে হবে, একটি নিরাপদ ও স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার দায় প্রতিটি নাগরিকের। দেশের নাগরিকগণ এ কাজে নিষ্ক্রিয় থাকলে এবং এ কাজে অবহেলা দেখালে সরকার ব্যর্থ হতে বাধ্য। তখন সরকারকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে কোন লাভ হবে না। তখন শুধু সরকারই ব্যর্থ হবে না, সমগ্র রাষ্ট্রই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
ইসলামে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার কোন স্থান নাই। ঈমানদার হওয়ার অর্থই হল সৎ কাজে সক্রিয় হওয়া। ঈমানদারের দায় হলো, সে তার মেধা, সময়, অর্থ, শক্তি এমনকি রক্তের বিনিয়োগ করবে সমাজ থেকে দুরবৃত্তি নির্মূলে এবং সুবিচারের প্রতিষ্ঠায়। ইসলামে সেটিই হলো পবিত্র জিহাদ।
ঈমানদার হওয়ার অর্থ শুধু নামাজ,রোজা, হজ ও যাকাত নিয়ে বাঁচা নয়, বরং জিহাদ নিয়ে বাঁচাও। দুর্বৃত্তের নির্মূল ও সভ্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় জিহাদই হলো একমাত্র হাতিয়ার। যেখানে জিহাদ নয় সেখানে জোয়ারটি দুর্বৃত্তির। সমাজকে দুর্বৃত্ত মুক্ত করার কাজটি নামাজ রোজা হজ যাকাত দিয়ে হয়না।
নবীজীর প্রতিটি সাহাবী জিহাদ করেছেন এবং অর্ধেকের বেশি সাহাবা শহীদ হয়েছিলেন বলেই সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মাণের কাজ সম্ভব হয়েছিল।
অথচ আজ যারা মনে করে বেশি বেশি মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে এবং নামাজ-রোজা আদায় করে তারা ইসলামের প্রতিষ্ঠা এবং সভ্য ও স্বাধীন রাষ্ট্র নির্মাণ করে ছাড়বে -তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছে। পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে এমন আহাম্মকদের সংখ্যাটি বিশাল। এদের কারণেই বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম দেশে বিষয়টি শয়তানের পক্ষের শক্তির এবং পরাজিত হয়ে আছে ইসলামী বিধান। ফলে বেঁচে নাই আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শারিয়া।
পরকালের যখন মহান আল্লাহর দরবারে হাজির করা হবে তখন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, "যখন তোমার রব'য়ের সার্বভৌমত্ব ও তাঁর শারিয়া বিধান তোমার দেশে বিলুপ্ত ছিল,তখন তোমার ভূমিকা কি ছিল?