• ঢাকা |

মাটি খেয়ে নিচ্ছে ড্রেজার চক্র: মুরাদনগরে অভিযান, ধ্বংস ৩শ' মেশিন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা। বর্ষা মৌসুমের সুযোগ নিয়ে উপজেলার সোনাকান্দা, সাহেদাগোপ, কামাল্লা, যাত্রাপুরসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের ফসলি জমিতে রাতদিন চলছে মাটি ও বালু উত্তোলন। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর পড়ছে মারাত্মক প্রভাব।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কামাল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকা, যাত্রাপুর উত্তর বিল, শাহেদাগোপ গ্রামের কৃষিজমি, দৈয়ারা বিল এবং সোনাকান্দা দরবার শরিফ সংলগ্ন এলাকাসহ অসংখ্য স্থানে এ কার্যক্রম চলে আসছে প্রায় ৬ মাস ধরে।

অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীরা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। অভিযানের খবর পেয়ে ড্রেজার অপারেটররা স্থান পরিবর্তন করে। এমনকি দিনের বেলায় মেশিন সরিয়ে ফেললেও সন্ধ্যায় আবারও নতুন মেশিন বসিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যায় চক্রটি।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মুরাদনগরের ২২টি ইউনিয়নে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁনের নেতৃত্বে অভিযানে ৩ শতাধিক ড্রেজার মেশিন ধ্বংস, ৩ লাখ ফুট পাইপ বিনষ্ট এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন বলেন,

“আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক ড্রেজার ধ্বংস ও সাড়ে তিন লাখ ফুট পাইপ বিনষ্ট করেছি। ৫০ লাখ টাকার উপরে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ ড্রেজার পরিচালনাকারীদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না। আমরা যখন ঘটনাস্থলে যাই, তখন কাউকে পাওয়া যায় না। কেউই তথ্য দিতে আগ্রহী নয়।”

তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে পানিতে টইটুম্বর ফসলি মাঠে ড্রেজার মেশিন বসানোয় অভিযান পরিচালনায় বেশ জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তবুও যতটুকু সম্ভব, অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ড্রেজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই চক্র পুরো মুরাদনগরের কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলবে।