মোঃ মনজুরুল আলম, বদরগঞ্জ: রংপুর মহানগরীর পরশুরাম থানাধীন আমাশু কুকরুল পূর্বপাড়ায় চুরির সময় লোহার রড দিয়ে হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক যুবক গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত ৩ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী মিলন মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং ১৮টি সেলাই দিতে হয়েছে। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, অসুস্থ বাবার জন্য ওষুধ কিনে রাত ১০টার দিকে মিলন বাড়ি ফেরেন। তিনি লক্ষ্য করেন, আশপাশে বিদ্যুৎ থাকলেও তার ঘর অন্ধকার। ঘরে ঢুকে দেখেন আলমারির তালা ভাঙা এবং জিনিসপত্র এলোমেলো।
ঘর তল্লাশির সময় তিনি খাটের নিচে এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পান। তাকে বের করার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি খাটের নিচে থাকা টিউবওয়েলের লোহার রড নিয়ে বেরিয়ে এসে মিলনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করে। তবে পরিবারের অভিযোগ, পরে সে কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা রাত ১০টা ২০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরশুরাম থানার এসআই শাহাদাত হোসেন ফোর্সসহ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। পথে মিলন ও তার পরিবারের সঙ্গে পুলিশের দেখা হয়। পুলিশ তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরিবার জানায়, অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করেছিল, কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুসলিম উদ্দিন, হোসেন আলী ও ইয়াকুব আলীর সহায়তায় অভিযুক্ত লিমন মিয়া, ২০, পিতা ছাদেকুল ইসলাম, একই এলাকার বাসিন্দা, পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চুরির উদ্দেশ্যে তারা ঘরে ঢোকে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের সহযোগীরা ঘর থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এফআইআরে উল্লেখ আছে, মিলন অভিযুক্তকে চিনে ফেলায় তার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।
পরিবার জানায়, মিলনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অভিযোগ দায়েরে দেরি হয়েছে। ৬ মে ২০২৬ মামলা রুজু হলেও পুলিশ এখনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিমন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করলেও তাকে আটক করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সূত্র জানায়, অভিযোগ দাখিলের সময় রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী পরশুরাম থানায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি পুলিশকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।
পরশুরাম থানার অফিসার ইনচার্জ রাজিবুল ইসলাম বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”