• ঢাকা |

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

এক দলকে সরিয়ে আরেক দলকে বসাতে জুলাই বিপ্লব হয়নি—এটিএম আজহার
এমএম রহমাতুল্লাহ: 
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এবং সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, “এক দলকে বিদায় করে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসাতে জুলাই বিপ্লব হয়নি। এই বিপ্লব হয়েছে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী শাসন কাঠামো পরিবর্তনের জন্য।” তিনি সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে “নতুন বাংলাদেশ” গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, সরকার যদি সময়মতো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলো সহজে সম্মত হয়নি এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়িত হয়েছে। একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক বলেন, সরকার কিছু অধ্যাদেশ নিজেদের সুবিধামতো গ্রহণ করছে। কিন্তু জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন অধ্যাদেশগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরে তা অস্বীকার করা হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা অস্বীকার করা জনগণের প্রতি অসম্মান। তিনি একটি “জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন” হিসেবে নতুন সংবিধান প্রণয়নের আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মোখলেছুর রহমান কাসেমী, ওমর ফারুক এবং রাশেদ প্রধান প্রমুখ। তারা সবাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এবং প্রয়োজন হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

বক্তারা বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই জনগণের ভোটে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সরকার সংসদ নির্বাচনকে বৈধ বলে মেনে নিলেও গণভোটকে অস্বীকার করছে, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার শামিল।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নাইটেঙ্গেল মোড় হয়ে কাকরাইল এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের দাবিতে স্লোগান দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য আরও তীব্র হলে রাজপথে আন্দোলন বাড়তে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন দিকে মোড় নিতে বাধ্য করতে পারে।