• ঢাকা |

"সম্মানিত ওয়ায়েজদের প্রতি বিনীত নিবেদন"


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১ নভেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

১.
দয়া করে ইসলামের কথা বলতে গিয়ে পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীসকে মূল উপাদান হিসেবে গ্রহণ করুন। 
২.
ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কিসসা-কাহিনি পরিহার করুন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কিসসা বর্ণনা করুন। 
৩.
ইসলামের উপর লিখিত প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি মূল ভাষায় পড়ার চেষ্টা করুন। মূল ভাষার কিতাব পাওয়া না গেলে গ্রহণযোগ্য অনুদিত বইয়ের সাহায্য নিন। 
৪.
স্বপ্নকে ইসলামী জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিবেচনা করবেন না। কারণ স্বপ্ন কোন অকাট্য দলীল নয়। তা সত্যও হতে পারে আবার অসত্যও হতে পারে। 
৫.
নিজের বড়ত্ব জাহির করতে গিয়ে অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা থেকে বিরত থাকুন। 
৬.
পোষাক পরিচ্ছদে স্বাভাবিকতা বজায় রাখুন। অকৃত্রিম ও অস্বাভাবিক পোশাক পরিচ্ছদ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। 
৭.
শব্দচয়ন এবং ভাষা প্রয়োগে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করুন। রুঢ়, অশালীন, কর্কশ এবং অন্যের জন্য কষ্টদায়ক শব্দ ও ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। 
৮.
অরুচিকর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করবেন না। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। 
৯.
মাইক থাকা সত্বেও যেখানে সেখানে চিৎকার দেয়া বন্ধ করুন। চোখ লাল করে রেগেমেগে ভয়ানকভাবে হুমকি ধমকি পরিহার করা বাঞ্চনীয়। 
১০.
বিনয়ী হোন; ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ পরিহার করুন। আত্মপ্রচারের প্রবণতা পরিহার করুন।
১১.
দীর্ঘ বক্তৃতা পরিহার করুন, মানুষ বিরক্ত হওয়ার পূর্বেই আলোচনা শেষ করুন। 
১২. 
গভীর রাত পর্যন্ত ইসলামী আলোচনা করবেননা। এটা একদিকে রাসূলের সা সুন্নাহর পরিপন্থী অপরদিকে এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ে। অনেকের ফজরের নামাজও ক্বাজা হয়ে যায়। 
১৩.
একদিনে কয়েকটি মাহফিল বা প্রতিদিন মাহফিল করা থেকে বিরত থাকুন। এতে একদিকে আপনি লেখাপড়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে পারিবারিক কাজকর্ম গুছিয়ে নিতে পারবেন। 
১৪.
সম্ভব হলে দ্বীনি দাওয়াতী কাজ তথা মাহফিলকে জীবিকার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করে উপার্জনের বিকল্প পন্থা অবলম্বন করুন। 
১৫.
আপনি যা জানেন তাই সঠিক ও নির্ভূল আর অন্যদের জানাশোনা পুরোপুরি ভুল - এরুপ একপেশে  ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন।
১৬.
যশখ্যাতি লাভের দিকে মনোনিবেশ না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খুলুছিয়াতের সাথে বয়ান করুন। দুনিয়ার খ্যাতির চাইতে ক্ববুলিয়াত অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। 
১৭.
বিপরীত মতাদর্শের কারো নাম ধরে অশালীন ভাষায় সমালোচনা পরিহার করুন। এটা উন্নত রুচির পরিচায়ক নয়। 
১৮.
হাসি রসিকতা বয়ানের অংশ হতে পারে। তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয় এবং কোনভাবেই তাতে মিথ্যার মিশ্রণ না থাকে। 
১৯. 
বক্তার তালিকায় আপনার স্থান কত নম্বরে তা নিয়ে মোটেই ভাববেননা। দ্বীনের দা'ওয়াতে এসব সিরিয়ালের কোনই গুরুত্ব নেই।
২০. 
খানা পিনা, বাসস্থান এবং অন্যান্য খিদমত প্রাপ্তি নিয়ে আয়োজকদের সাথে দুর্ব্যবহার করবেন না।
বরং তাদের শুকরিয়া আদায় করুন যে, তারা অনেক মেহনত করে আপনার দাওয়াতী কাজের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছেন।
২১. 
নিজের নামের শুরুতে বাহারী রকমের উপাধি, ডিগ্রি ইত্যাদি সংযোজনে আয়োজকদের নির্দেশনা দিবেন না। ফুলের সৌরভ বা আতরের সুগন্ধি নাম উপাধি বা শ্রেষ্ঠত্ব বয়ানের উপর নির্ভরশীল নয়।
২২.
আপনার আলোচনায় যেসব তথ্য উপস্থাপন করতে চান, তার সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা ভালো করে যাচাই করে নিন।
কারণ আপনি ভুল, ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করলে তা অনেকের কাছেই ধরা পড়ে যাবে। এতে আপনার মর্যাদা, ইলমী অবস্থান যথেষ্ট ক্ষুন্ন হবে, যা মোটেই সুখকর হতে পারে না।
২৩.
ক্ষেত্রবিশেষে আবেগের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই তবে অতী আবেগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খারাপ পরিণতি নিয়ে আসে- বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন।
২৪.
মনে রাখবেন সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে পৃথিবী এগিয়ে গেছে বহুদূর। বাস্তববাদী হোন, পৃথিবীর সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করুন। 
২৫.
হতে পারে আপনার অসতর্কতার কারণে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ম্যাসেজ যেতে পারে জনগণের মাঝে, যার দায়িত্ব আপনি এড়াতে পারবেন না। যে মহান খিদমত আপনি করে যাচ্ছেন নেক নিয়তে, পদ্ধতিগত ও চিন্তাগত ভুলের কারণে তাই হয়ে যেতে পারে আপনার জন্য তথা ইসলামের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। 
২৬.
লাউড স্পিকার বা মাইকের পরিমিত ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় শত শত মাইক ব্যবহার করে শব্দ দোষণ করবেন না। 
অনেক অসুস্থ ব্যক্তি থাকেন, অনেকেই ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকেন, অনেকেই ঘুমুতে যান। তাদের জন্য আপনার মাইকের আওয়াজ যেন কষ্টের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। 

মোঃ মুখলেছুর রহমান, 
সাবেক অধ্যক্ষ,  জামেয়া দ্বিনীয়া, ভিজিটিং শিক্ষক, মাদ্রাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা টঙ্গী শাখা।
সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল, সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ।