নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে অনিয়ম ও ব্যর্থতার দায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি) আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জালভোট, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগে শনিবার বিকেলে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার জুলাই চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, গত ৫ আগস্টের আগে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে যেভাবে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির ঘটনা ঘটেছিল, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে শুরু করে শেরপুর, বগুড়া এবং সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব নির্বাচন প্রমাণ করে, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর সরকার ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে।’
নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান জামায়াতের এই প্রার্থী। অন্যথায় তাঁর দল দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং নির্বাচনের পরেও বিএনপির নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। হামলায় দলের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
নারী কর্মীরাও হামলা ও হয়রানি থেকে রেহাই পাননি উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, দলের একজন নারী কর্মীকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নির্বাচনের অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ফলাফল নির্ধারণ দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো অধ্যায়। এসব সহিংসতা বন্ধ করে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, প্রেস সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শাহ জালাল জুয়েল, শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম এবং সদর উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান।
সমাবেশের আগে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের জুলাই চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড় হয়ে পুনরায় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচন নিয়ে উত্থাপিত অনিয়ম, কারচুপি ও হামলার অভিযোগগুলো জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।