এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন,নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোন স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি। বিএনপির সৌভাগ্য হচ্ছে জনগণের ভোটে তারা বার বার নির্বাচিত হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে তারা যে কালাকানুন তৈরি করে পরে সেটার অপপ্রয়োগের প্রধান শিকারে পরিণত হয় তারা। আজ ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি এনসিপি’র সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত"সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী- বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ" শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সকাল ১১ টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, ডেইলি ওয়াদার ম্যানেজিং এডিটর ফয়সাল মাহমুদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, লেখক, বিশ্লেষক এবং নাটশেল টুডে’র নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বক্তব্য রাখেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী প্রস্তাবনায় ২৬/ক ধারায় "অযাচাইকৃত তথ্য" ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই অস্পষ্টতার অপব্যবহার বা অপপ্রয়োগ সরকার একতরফাভাবে বিরোধী মত ও পক্ষের ওপর করবে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একটি রাজনৈতিক দলের (জামায়াতে ইসলামী) সেক্রেটারি জেনারেলকে ইঙ্গিত করে দাবি করেছেন যে, তাঁর নাকি ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। এটা কি অযাচাইকৃত তথ্য না? তাহলে এখনতো এই প্রশাসকের ১০ বছর জেল হওয়া উচিৎ।
বিএনপির এক শ্রেণীর নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের সমলোচনা করে জনাব মঞ্জু বলেন, তারেক রহমান হলেন এ জাতীয় নেতা কর্মীদের নামকওয়াস্তে নেতা। বাস্তবে তাদের আধ্যাত্মিক ও নির্বাহী নেতা হলো শেখ হাসিনা।
সাইবার স্পেসে অশালীন ভাষা ও মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ অশালীনতা করলেই শুধু গ্রেফতার বা অ্যাকশন হয় কিন্তু বিরোধীপক্ষের বিরুদ্ধে গালিগালাজ বা অশ্লীলতার কোন বিচার হয়না, এটা যেন কোন অন্যায় নয়। তিনি সরকারের নানা দ্বৈত নীতির সমলোচনা করে বলেন, নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোন স্বৈরশাসক টিকতে পারেনি।