নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে তাঁরা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে আরও এগিয়ে নিতে তাঁর দেশ আগ্রহী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের নোলেজ করিডোর প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন হাইকমিশনার। এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেছে। সফর শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মাদ ওয়াসিফ, পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।