নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭-কে আরও উদ্যোক্তাবান্ধব, বাস্তবমুখী ও বিনিয়োগ সহায়ক করার জোর দাবি উঠেছে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, কর কাঠামো যৌক্তিক করা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডব্লিউএফ) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭: ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আবাসন খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় এই খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিহ্যাবের নবনির্বাচিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় কৃষিজমি রক্ষায় পরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি করনীতি হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি, বিনিয়োগবান্ধব ও বাস্তবসম্মত।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মো. হারুন অর রশিদ ফ্ল্যাট পুনর্বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কর কাঠামো সহজ ও যৌক্তিক করার দাবি জানান। একই সঙ্গে উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আইবিডব্লিউএফ সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের টেকসই বিকাশে কর সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বৈঠকে বক্তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার দাবি জানান। এছাড়া বিকেএমইএ পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির জ্বালানি নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আইবিডব্লিউএফের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আনোয়ারুল আজিম, সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা।