মোঃ মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় একাডেমি মোড় থেকে দেবীনগর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণকাজ ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার কারণে প্রকল্পটির অবশিষ্ট কাজ আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও ড্রেন নির্মাণের জন্য খনন করা গর্ত ও অসমাপ্ত কাজ জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রায় ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও অবশিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, একাডেমি মোড় থেকে দেবীনগর পর্যন্ত সড়কটি শিবগঞ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ সড়কের আশপাশে রয়েছে থানা, হাসপাতাল, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়, সোনালী ব্যাংক, বীমা অফিস, এতিমখানা, দাখিল মাদ্রাসা ও মসজিদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা মানুষকে এ পথ ব্যবহার করতে হয়।
কিন্তু ড্রেন নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় খনন করা গর্ত ও নির্মাণকাজের কারণে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে সড়কসংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তারা প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না। বরং নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় দুই বছর আগে আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ১০০ মিটার এবং নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার অংশের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৩০০ মিটার। তবে পৌরসভার নির্ধারিত জায়গায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তিন ব্যক্তির আপত্তির কারণে গত ছয় মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ড্রেন নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু স্থানীয় তিনজন বাসিন্দা পৌরসভার নির্ধারিত জায়গায় মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় অবশিষ্ট অংশের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
এদিকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠা স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুর ও আলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাড়ির মধ্যে পৌরসভার ৪ থেকে ৫ ফুট জায়গা রয়েছে। দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলে বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তাঁরা মনে করেন। এ কারণেই তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ড্রেন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত পৌরসভার জায়গার মধ্যে কয়েকজনের বাড়ির অংশ এবং একটি মসজিদের কিছু অংশ পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত সমস্যার নিষ্পত্তি করে ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন অবকাঠামোর কাজ অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা জরুরি।
প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ কবে শেষ হবে, এখন সেটিই শিবগঞ্জবাসীর বড় প্রশ্ন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি করা হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।