• ঢাকা |

বগুড়ায় সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানায় ডিবির অভিযান, গ্রেপ্তার ৩


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মো. রুহুল আমিন, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় করতোয়া নদীর তীরের জঙ্গলঘেরা একটি দুর্গম স্থানে অভিযান চালিয়ে কথিত সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান রকিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদক, নগদ টাকা এবং নির্যাতনে ব্যবহৃত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানা গড়ে চক্রটি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। চক্রটি মাদক কারবারের পাশাপাশি অপহরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই শামীম আহমেদ জানান, ডিবির ওসি মো. ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে তিনটি দল করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানাটি ঘিরে ফেলে।

অভিযানের সময় চক্রের কথিত প্রধান রকি ও তার সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আরও পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যান।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদক এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকারও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণ করে আনা ব্যক্তিদের নির্যাতনে এটি ব্যবহার করা হতো।

ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিল-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পান। পরে লোকালয় ছেড়ে নদীর তীরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গড়ে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।