নিজস্ব সংবাদদাতা: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬’ তারিখ রোজ শনিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে “দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়” শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ১২ দলীয় জোট। জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবু হানিফ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন বিদ্যুত কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি স্যাবোটাজ কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আমাদের কিছু সংকট আছে। গ্যাস সংকট আছে। এজন্য কে দায়ী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দায়ী। যতগুলো জাহাজ আসতে পারতো এখন সেগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে আসতে পারছেনা। আমাদের মহেশখালীতে যে রিগ্যাসিফিকেশন করা হতো সেখানেও ত্রুটি হয়েছে। তবে সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। আর কিছু দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হবে ইনশাআল্লাহ। শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে একটার পর একটা বিদ্যুত কেন্দ্রে কারগরি ত্রুটি হচ্ছে। এগুলো সব্যাবোটাজ কি না সে বিষয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। আজকে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলেই সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হয়। রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে সরকার দ্রুত গতিতে কাজ করছে। আমরা এমন ঘটনা ২০০১-২০০৬ সালেও দেখেছি।
তিনি বলেন, সরকার তো মানুষের উপকারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানামুখী কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড দিচ্ছে। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের উত্তর পশ্চিমে মরুভূমি হওয়ার উপক্রম। মাটির নিচেও বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। সেই দিক বিবেচনায় বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি আবারও গ্রহণ করেছে। পাঁচ বছরে বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ৬ মাসে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। আজকে এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তিনি আরো বলেন, ১২ দলীয় জোট সব সময় দেশের পক্ষে গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দেশকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছে বারো দলীয় জোট। বিরোধী দল সংসদে ও বাইরে কথা বলবে ঠিক আছে কিন্তু কোনো অপ্রাসঙ্গিক কথা যেন না বলে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আজকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল উঁকি দিচ্ছে। রক্তপিপাসু আওয়ামী লীগ হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিলো, শিশুদের জীবন কেড়ে নিলো তাদের বিচার হবে না! তাহলে তারা ফিরে আসলে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের কী হবে? কেউ তো রেহাই পাবেনা।
রিজভী আরো বলেন, এই দলটির ডিএনএর সাথে খুনের বিষয়টি জড়িত। তারা নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করতেও দ্বিধা করেনি! তারা কি আবারও ফিরে এসে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে! আমরা কী সব ভুলে গেছি? হাজারো লাশের রক্ত ডিঙিয়ে তারা আবার রাজনীতি করবে? তারা তো বিরোধী রাজনীতি সহ্য করতে পারে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যে যাতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান আর না ঘটে। বিশ্বের কোথাও কিন্তু পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটেনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমাদের সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সেটা যাতে বাকস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম না করে। ইসলামী আইন ফারাজ নিয়ে কথা হচ্ছে। এ কথা তো সত্যি যে, অনেক মা বাবাকে তাদের সন্তানেরা ঠিকমতো দেখেনা। খোঁজ রাখে না। যে আইনটি হয়েছে সেটা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।
আরও বক্তব্য রাখেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মো: শামসুদ্দিন পারভেজ, জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিংকন, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান এমএ বাশার, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল(পিএনপি)’র চেয়ারম্যান ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন ও নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল মান্নান, ইসলামী ঐক্য জোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আমরা সরকারের সমালোচনা করবো ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিবে বন্ধু হয়ে। আজকের বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না।