• ঢাকা |

‘চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না’: শেরপুরে ১১ দলীয় লংমার্চের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের ওপর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। একজন শ্রমিক বা ট্রাকচালক নিজের শ্রমের উপার্জন দিয়ে সংসার চালাবেন, নাকি পথে পথে চাঁদা দিতে দিতে সর্বস্বান্ত হবেন—এ প্রশ্ন তুলে তিনি চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার শেরপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একদল মানুষ আছে—তাদের যেন শুধু ‘খাই খাই’।” তাঁর অভিযোগ, একজন সাধারণ মানুষ, শ্রমিক বা ট্রাকচালক জীবিকার জন্য পথে বের হলেই বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। পঞ্চগড় থেকে ট্রাক নিয়ে যাত্রা করা একজন চালককে পথের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতে হয় এবং চাঁদা না দিলে হামলার শিকার হতে হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, একজন ট্রাকচালক কেন এত জায়গায় চাঁদা দেবেন? তাঁর উপার্জন দিয়ে সংসার চালাবেন, নাকি চাঁদা দিতে দিতে সর্বস্বান্ত হবেন? এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ওপর নতুন কোনো বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হবে।

জামায়াত আমীর বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। ভোটের আগে এক ধরনের কথা বলে ভোটের পরে তার বিপরীত অবস্থান নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরি বা ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়া হবে না।

কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে দখল, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া কিংবা অন্যায়ভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানান তিনি।

লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের গণরায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হচ্ছে কি না, জুলাইয়ের ঘোষিত প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকলেও মানুষ সেগুলো ঠিকমতো পাচ্ছে না। কৃষক সময়মতো সার পাচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো না থাকলেও বিদ্যুতের বিল দুই-তিন গুণ বেড়ে যাবে কেন?

তিনি বলেন, জনগণের ওপর নতুন করে বোঝা চাপানো হলে তারা প্রতিবাদ করবেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকবেন।

সমাবেশে নারীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, সাধারণত যাদের রাজপথে দেখা যায় না, সেই মা-বোনেরাও আজ দাবির সঙ্গে সংহতি জানাতে রাস্তায় নেমেছেন। তাদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাবি মেনে নেওয়া হলে সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হবে। অন্যথায় লংমার্চ আরও বৃহৎ করার ঘোষণা দেন তিনি। ঢাকা থেকে রংপুর এবং পঞ্চগড় থেকে ঢাকা পর্যন্ত কর্মসূচিতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এসব দাবি কোনো একক দলের নয়; সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, যুবক ও নারীদের দাবিও এর সঙ্গে যুক্ত। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ভয়ভীতি বা চাপ দিয়ে তাদের থামানো যাবে না।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণকে সামনে রেখে নেতারা পেছনে থাকবেন না। তিনি নিজে সামনে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজনে জনগণের বিপদ নিজের ওপর নেবেন এবং গ্রেপ্তার করতে হলে তাকে গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যত বাধাই আসুক, তারা পিছু হটবেন না। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবাইকে সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।