• ঢাকা |

অবশেষে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা    


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ইং
ছবির ক্যাপশন:

মো: সাদেকুল ইসলাম, লালমনিরহাট: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই এই পূর্ণ প্রকল্পের সার্ভে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে, যা তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
বুধবার (৫ নভেম্বর) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তাকে ঘিরেই লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ হয়। কৃষক থেকে শুরু করে জেলে সবাই এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর তিস্তার ভাঙন ও প্লাবনে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন উত্তরের ৫ জেলার বাসিন্দা।
একটা লম্বা সময় ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ। ২০১৪ সাল থেকে শুষ্ক মৌসুমে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তিস্তার সব পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর পাশাপাশি বর্ষাকালে তিস্তায় প্রবাহিত হয় তিন থেকে চার লাখ ঘনফুট পানি এবং সব কপাট খুলে দেওয়া হয়। ফলে দ্রুত বেগে নেমে আসা তিস্তার পানিতে উত্তরের পাঁচ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। ভাঙনের পাশাপাশি ব্যাপক ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়ে।
বিগত আওয়ামী সরকার তিস্তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে আগামী জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ।
স্বপ্নপূরণের পথে তিস্তা পাড়ের মানুষ: তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা। এই নদীর পানিনির্ভরতা এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতি বছরই বন্যা আর খরার কবলে পড়ে তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এই সমস্যাগুলোর একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো তিস্তা নদীর পানি সম্পদকে সুষমভাবে ব্যবহার করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মৎস্য চাষের প্রসার, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নদী তীরবর্তী এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমনে প্রত্যাশা: পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দূর হবে এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যার ভয়াবহতা কমবে। এর ফলে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।