মামুন তালুকদার, খুলনা, রূপসা থেকে : খুলনার রূপসা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক বর্তমানে চরম বেহাল দশায় রয়েছে। পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে খানজাহান আলী (রঃ) সেতু পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটিতে খানাখন্দ, কাদা-পানি আর ভাঙাচোরা অংশে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে জনসাধারণ, ব্যবসায়ী এবং হাজার হাজার শ্রমিক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান রূপসা সেতুর আশপাশে গড়ে উঠেছে বহু মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। রয়েছে কয়েকটি বরফকল, প্যাকেজিং কোম্পানি, কোস্টগার্ড অফিসসহ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এই ভাঙা রাস্তায়।
বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তার ওপর জমে থাকা কাদা-পানি ও অসংখ্য গর্তের কারণে ট্রাক, ভ্যান, মোটরসাইকেল এমনকি পায়ে হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানায়, প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
রাস্তাটির পাশে অন্তত ১৫টির বেশি চিংড়ি ও সাদা মাছ প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান ভরসা এই রাস্তাটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, শ্রমিকদের উপস্থিতিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চিংড়ি বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম বলেন “সড়কের এমন অবস্থা আমাদের ব্যবসাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। ট্রাক ঢুকতে চায় না, শ্রমিকরা সময়মতো কাজে পৌঁছাতে পারে না। আমাদের দেশের রপ্তানি আয়ে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, অথচ এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন একেবারেই নেই।”
অতিরিক্ত ওভারলোডিং ট্রাক চলাচল বাড়িয়েছে ক্ষতি
স্থানীয়রা জানান, ইট, বালু, খোয়া, পাথর ও কয়লার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা প্রতিদিন শত শত ওভারলোডিং ট্রাক চালান এই সড়কে। যে রাস্তা সর্বোচ্চ ২০ টন লোড সহ্য করতে পারে, সেখানে চলছে ৫০-৬০ টনের ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক। ফলে রাস্তা ধসে পড়ে চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে গেছে।
রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকার মুঠোফোনে বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় রাস্তার পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন প্রয়োজন। প্রশস্ত করে আরসিসি (RCC) রাস্তা নির্মাণ করতে হবে, নদীপাড় সংলগ্ন অংশে সুরক্ষা দেয়ালও দরকার। সব মিলিয়ে এটি একটি বড় প্রকল্পের বিষয়, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মীর বলেন, “রাস্তাটি সংস্কার নিয়ে আমরা বহুবার আবেদন করেছি। রূপসা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেতে গেলে আমাদের এই রাস্তা ব্যবহার করতেই হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে এখানে কোনো উন্নয়ন কাজ হচ্ছে না। এই অবস্থায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে?”
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাসই মিলছে, বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসছে না। রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জনসাধারণের চলাচলের পথ হওয়া সত্ত্বেও অবহেলিতই থেকে গেছে। অতিসত্ত্বর রাস্তার পূর্ণ সংস্কার এবং ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ না আনলে জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।